Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

অবশেষে গাজায় আকাঙ্খিত যুদ্ধবিরতি; থাকছে যেসব শর্ত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৫২

অবশেষে গাজায় আকাঙ্খিত যুদ্ধবিরতি;  থাকছে যেসব শর্ত

১৫ মাসের যুদ্ধ শেষ করতে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে ইসরায়েল ও হামাস। ১৫ জানুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় দুপক্ষের প্রতিনিধিরা এ চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিটি কার্যকর হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি।

কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছে। নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি সরাসরি উপস্থিত থেকে দুই পক্ষকে চুক্তিতে উপনীত হতে সাহায‍্য করেছেন।এর মধ‍্যদিয়ে ১৫ মাস ধরে চলা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী লড়াইয়ের অবসান হতে চলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার এবং হামাসের হাতে থাকা সব বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির খবর জানার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের অনেককে রাস্তায় উল্লাস করেন। 

জাতিসংঘের মহাসচিব এ‍্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই সংঘাতের কারণে গাজাবাসির যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও কষ্টের দিন গেছে তা লাঘব করাই প্রথম অগ্রাধিকার। আর জাতিসংঘ ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত।

এই চুক্তির ফলে গাজা শহর এবং দক্ষিণ গাজা থেকে লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এখন তাদের নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে পারবেন। ফিলিস্তিনিদের জন্য চুক্তির অন্যতম দিক হলো, এর ফলে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ছয়শ ট্রাক ত্রাণ এবং চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশ করতে দেয়া হবে। গাজায় অবশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সচল রাখতে ৫০টি জ্বালানী ভর্তি লরিও পাঠানো হবে বলে জানা যাচ্ছে।

চুক্তির মধ্যে রয়েছে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি, যা আপাতত গাজার ওপর চলমান ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করবে। একই সঙ্গে গাজা এবং ইসরায়েলে বন্দি থাকা অনেক ব্যক্তির মুক্তির শর্তও রয়েছে। এই চুক্তির ফলে অবশেষে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা তাদের ঘরে ফিরে যেতে পারবে। তবে ইসরায়েলের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ফিলিস্তিনিদের ঘর-বাড়ি বলে আর কিছু নাই।

প্রথম ধাপটি ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে, যার মধ্যে থাকবে একটি সীমিত বন্দি বিনিময়, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের আংশিক প্রত্যাহার এবং এলাকায় ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি।

এ ধাপে ৩৩ জন ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি পাবে। এদের মধ্যে রয়েছে নারী, শিশু এবং ৫০ ঊর্ধ্ব বয়স্ক বেসামরিক ব্যক্তিরা। এর বিনিময়ে, ইসরায়েল প্রথম ধাপে অধিক সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে, যার মধ্যে আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরাও অন্তর্ভুক্ত। মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে প্রায় ১,০০০ জন রয়েছেন, যারা ৭ অক্টোবরের পরে গ্রেফতার হয়েছিল।

বন্দি বিনিময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল তাদের বাহিনীকে গাজার জনবহুল কেন্দ্র থেকে ৭০০ মিটারের বেশি ভেতরে না গিয়ে সীমান্ত বরাবর অবস্থানে সরিয়ে নেবে। নেটজারিম থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।

ইসরায়েল গাজার উত্তরে অবরুদ্ধ এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেবে, যেখানে সাহায্য সংস্থাগুলি দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। 

ইসরায়েল গাজা থেকে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেবে এবং প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার সাত দিন পর মিশরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেবে।

ইসরায়েলি বাহিনী মিশর এবং গাজার সীমান্ত এলাকা ফিলাডেলফি করিডোরে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনবে এবং চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৫০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করবে।

চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরের বিষয়ে আলোচনাগুলো প্রথম ধাপের ১৬তম দিনের মধ্যে শুরু হবে। সেখানে অবশিষ্ট সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, প্রথম ধাপ শেষ হওয়া এবং তাদের বেসামরিক বন্দিদের ফেরত পাওয়ার পরে আবার হামলা শুরু হবে না এমন কোনো লিখিত নিশ্চয়তা দেবে না ইসরায়েল।

তৃতীয় ধাপের বিস্তারিত তথ্য এখনো অস্পষ্ট। যদি দ্বিতীয় ধাপের শর্তগুলো পূরণ হয়েছে বলে বিবেচিত হয় তবে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট বন্দিদের মরদেহ ফেরত দেয়া হবে। বিনিময়ে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে তিন থেকে পাঁচ বছরব্যাপী পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।

যুদ্ধবিরতির পরে গাজার প্রশাসন কে পরিচালনা করবে, তা নিয়ে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের একটি সংস্কারিত রূপকে এই দায়িত্ব দেয়ার জন্য চাপ দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ১৪ই জানয়ারি বলেছেন, যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন এবং শাসন ব্যবস্থার পরিকল্পনা অনুসারে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করবে, যা গুরুত্বপূর্ণ সেবা পরিচালনা করবে এবং অঞ্চলটি তদারকি করবে।

অন্য অংশীদাররা, বিশেষ করে আরব রাষ্ট্রগুলো, স্বল্প মেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী সরবরাহ করবে।

ইসরায়েল এখনো গাজার জন্য বিকল্প শাসন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেনি।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪ ১৬.০১.২০২৫

Logo