Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

পশ্চিম রণাঙ্গণ শান্ত হলো

ঘরে ফেরার সময় এলো ফিলিস্তিনিদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৫১

ঘরে ফেরার সময় এলো ফিলিস্তিনিদের

অনেক রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করে

আজ এখানে এসে থমকে দাড়িয়েছি-

স্বদেশের সীমানায়

 

সংখ্যার হিসেবে ৪৭০ দিন, ৪৬,৭৮৮ জন মৃত, দেড় লক্ষাধিক আহত, কয়েক লক্ষ বাস্তুচ্যুত আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া জনপদ। গত ১৫ মাসে এভাবেই হিসাব গুনতে হয়েছে ফিলিস্তিনের মুসলিমদের। সংখ্যা বেড়ে যায় মৃতের আর সংখ্যা কমে যায় মানুষের। অবশেষে কামান আর বন্দুকের শব্দে বিরতি, অবশেষে ঘরে ফেরার আজান হলো গাজার প্রান্তরে। সুকান্তের কবিতায় এবার ঘরে ফেরার পালা।

 

শুরু হলো যুদ্ধবিরতি। ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বহুদিন পর, গুলির শব্দের পরিবর্তে উল্লাসধ্বনিতে মুখর হয়েছে গাজার সড়ক। আবারো ধ্বংসস্তূপে জীবনের বীজ বপন করবে গাজাবাসী। আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে। গত বুধবার যুদ্ধবিরিতি ঘোষণার পরই গাজায় অনেকের মুখে হাসি ফুটেছে। যদিও ওই ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় ১২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

 

এদিকে গতকাল শনিবার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে দেখা গেছে ইসরায়েলকে। যুদ্ধবিরতির প্রথম দফায় প্রথম ছয় সপ্তাহে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এর বিনিময়ে ৭৩৭ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দেবে ইসরায়েল। গতকাল সেই তালিকাও প্রকাশ করেছে নেতানিয়াহুর প্রশাসন। এ ছাড়া গতকাল দাতা সংস্থাগুলো খাদ্য ও জরুরি পণ্য নিয়ে অপেক্ষা করেছে, কখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, সেই সময় তারা ত্রাণ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করবে। খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি জিম্মিদের স্বজনরা মিশর সীমান্তে অপেক্ষা করছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের বুকে টেনে নিতে।

 

ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন জানিয়েছে, ১৮ লাখ মানুষ গাজায় উচ্চমাত্রায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তহীনতার মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার । জাতিসংঘের তরফ থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে, গাজা ভয়ানক দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

 

প্রশ্ন উঠেছে এই যুদ্ধে কে হারল, কে জিতল। নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়েছিলেন, হামাসকে সমূলে নির্মূল করবেন। কিন্তু দেখা গেল, হামাসের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ, মাঝারি পর্যায়ের নেতারাও নিহত হয়েছেন কিন্তু হামাস শেষ হয়ে যায়নি। ইসরায়েল দাবি করেছে, প্রায় ১৭ হাজার হামাস যোদ্ধাকে তারা হত্যা করেছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, হামাস যত সংখ্যক যোদ্ধা হারিয়েছে, ইতোমধ্যে সেই সংখ্যক যোদ্ধাকে নিয়োগ দিয়েছে তারা।


তাহলে? মৃতদেহ আর ধ্বংসস্তুপ ছাড়া কি পেলো আরবরা?

Logo