সৌদি আরব কেন হয়ে উঠলো বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৫, ১১:২৬

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমীকরণে সৌদি আরবের অবস্থান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইউক্রেন-রাশিয়া বৈঠক থেকে শুরু করে ফিলিস্তিন সংকটে আরব লীগের নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সুসম্পর্ক—এই সমস্ত বিষয়ই রিয়াদকে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে নিয়ে এসেছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে মধ্যস্থতাকারী সৌদি আরব
বিশ্ব যখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের যুদ্ধের সমাপ্তির পথ খুঁজছে, তখন সৌদি আরব মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে সৌদি নেতৃত্ব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের এই উদ্যোগ তাদের বৈশ্বিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সৌদির শক্তিশালী জ্বালানি সহযোগিতা, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক, এই দুইয়ের মিশ্রণে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি এক বিশেষ ভারসাম্যের ভূমিকা পালন করছে।
ফিলিস্তিন সংকটে নেতৃত্ব দিচ্ছে আরব লীগ
ইসরায়েলের গাজার ওপর সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পর ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে নেতৃত্ব নিচ্ছে আরব লীগ, যার কূটনৈতিক চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে সৌদি আরব। মিশরের উদ্যোগে গঠিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রিয়াদ কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সৌদির অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
ট্রাম্প-সালমান সম্পর্ক: নতুন সমীকরণ?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সুসম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সৌদি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম আমলে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বিশেষ করে অস্ত্র চুক্তি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আরব বিশ্বের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের সম্ভাব্য জয় সৌদি নেতৃত্বকে নতুন ভূমিকায় নিয়ে আসতে পারে।
কেন সৌদি আরব বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু?
সৌদি আরবের এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে—
অর্থনৈতিক শক্তি: সৌদি আরবের বিশাল তেলভাণ্ডার এবং জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেশটিকে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।
কূটনৈতিক ভারসাম্য: রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সৌদি আরব কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব: ফিলিস্তিন ইস্যু, ইরান-সৌদি সমঝোতা এবং গালফ সহযোগিতা পরিষদে (GCC) নেতৃত্বের কারণে সৌদি আরব বর্তমানে অঞ্চলের প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমছে এবং চীন-রাশিয়া জোট শক্তিশালী হচ্ছে, এর মধ্যেই সৌদি আরব নিজেকে এক স্বাধীন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
বিশ্বের রাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন ধারা সৌদি আরবকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে বাধ্য করছে। আগামী দিনে সৌদি নেতৃত্ব ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সমাধানে আরও গভীরভাবে জড়িত হতে পারে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে তারা পশ্চিমা বিশ্বের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতির এই নতুন বাস্তবতায় সৌদি আরবের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট