
গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য মিশরের নেতৃত্বে একটি নতুন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে আরব লিগ। কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি শীর্ষ সম্মেলনে এই পরিকল্পনাটি গৃহীত হয়। ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে আরব দেশেগুলোর এই ঐতিহাসিক ঐক্যমত্য ইতোপূর্বে আর দেখা যায়নি।
পরিকল্পনার মূল দিকসমূহ
এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা গাজার জনগণের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে এবং নিম্নলিখিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে:
আবাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠন:
ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, হাসপাতাল ও স্কুল পুনর্নির্মাণ।
পানি, বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার:
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান।
বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে বিশেষ অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপন।
মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি:
জাতিসংঘের সমন্বয়ে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা প্রদান।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন।
রাজনৈতিক সমাধান ও নিরাপত্তা:
গাজায় শান্তি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন।
হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিপরীতে আরব লীগের অবস্থান
মিশরের এই পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিকল্প হিসেবে এসেছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুসারে, গাজার জনগণকে অন্যত্র সরিয়ে অঞ্চলটিকে নতুনভাবে উন্নয়ন করার কথা বলা হয়েছিল, যা সমালোচকদের মতে জাতিগত নির্মূলের সামিল।
আরব লীগ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, গাজার জনগণকে তাদের ভূমিতে রেখেই পুনর্গঠনের কার্যক্রম চালানো হবে। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, "ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা ঐক্যবদ্ধ। পুনর্গঠনের নামে বাস্তুচ্যুতি মেনে নেওয়া হবে না।"
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য আরব দেশগুলো একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হবে। পাশাপাশি, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি কাজ করবে যাতে পুনর্গঠন কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়।
গাজার পুনর্গঠন কেবল অবকাঠামোগত নয়, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরব দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট