রমজানে ক্বাবা শরীফে ভীড় নিয়ন্ত্রণে সৌদির নতুন নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৫, ১৭:৩০

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ পালনের জন্য লাখো মুসল্লি যখন ক্বাবা শরীফে জমায়েত হচ্ছেন, তখন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিস্তৃত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশনার লক্ষ্য মক্কায় ইবাদত করতে আসা মুসল্লিদের আরো নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা।
রবিবার ঘোষিত এই নির্দেশনাগুলো মসজিদুল হারামে প্রবেশের প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং রমজান মাসে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির ভিড়ের মধ্যেও পবিত্র স্থানটির পবিত্রতা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নতুন পদক্ষেপগুলো মূলত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক ও মনোযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ।
মূল নিয়মাবলি:
১। গ্র্যান্ড মসজিদ এবং এর প্রাঙ্গণে অস্ত্র বা ধারালো বস্তু নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
২। অনুদান সংগ্রহ করা যাবে না।
৩। মোটরসাইকেল ও সাইকেল নিয়ে নামাজের কাছের এলাকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
৪। ধূমপান, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধভাবে পণ্য বিক্রয় — যেসব কর্মকাণ্ড আধ্যাত্মিক পরিবেশ নষ্ট করতে পারে, সেগুলো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
ব্যক্তিগত মালপত্র:
১। মুসল্লিদের ব্যক্তিগত মালপত্র মসজিদ প্রাঙ্গণে বা জানালার কাছে রেখে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
২। মসজিদের জানালায় ব্যাগ বা অন্য কোনো বস্তু ঝুলিয়ে রাখা নিষিদ্ধ।
ইবাদতের সময় শৃঙ্খলা:
তাওয়াফ, সাই (সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্য দিয়ে হাঁটা) এবং নামাজের সময় অন্যদের ব্যাঘাত ঘটায় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
যাতায়াত ও প্রবেশপথ:
১। গ্র্যান্ড মসজিদে আসা মুসল্লিদের জন্য জনপরিবহন (হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে, শাটল বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি) এর মাধ্যমে প্রবেশের নির্দিষ্ট রুট জানানো হয়েছে।
২। মক্কার ভেতরে ও বাইরে নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তা:
১। মসজিদের প্রবেশপথ ও প্রাঙ্গণে ডিজিটাল সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তাওয়াফের জন্য উন্মুক্ত এলাকা ও সেখানে যাওয়ার রুট দেখানো হবে।
২। মুসল্লিদের নিরাপত্তা পরামর্শ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জানানো হয়েছে, যাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন।
এই নতুন নিয়মাবলি মেনে চলার মাধ্যমে রমজান মাসে গ্র্যান্ড মসজিদে একটি সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সৌদি সরকার।