আমিরাতের শেখ জায়েদ মসজিদে ইফতার, সৌহার্দ্যের মেলবন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৫, ১০:০২

সংযুক্ত আরব আমিরাতের, এমনকি মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ। এটি এখন বিশ্বের লাখো ভ্রমণপিপাসুর গন্তব্য হয়ে উঠেছে। ৭টি আমিরাতের সমন্বয়ে গঠিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রয়াত জাতির পিতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের উদ্যোগে এবং তার নামে প্রতিষ্ঠিত হয় দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদটি।
শেখ
জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে ২০০৫ সাল থেকে নিয়মিত রমজান মাসের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত
পুরো মাসজুড়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য গণইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। কেবল করোনা ভাইরাস
মহামারির সময় তা স্থগিত ছিল।
গোড়ার
দিকে ২ হাজার মানুষের জন্য বিনামূল্যে ইফতারের ব্যবস্থা থাকলেও দিন যেতে তার পরিধি
বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষকে এখানে ইফতার দেওয়া
হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ইফতার গ্রহণে ইচ্ছুকদের উপস্থিতি ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়
এবং রমজানের শেষদিকে এই সংখ্যা আরো বাড়ে।
মসজিদটিতে
বিকেল থেকেই শুরু হয় রোজাদারদের আগমন। বিভিন্ন শ্রমিক নগরী থেকে এখানে আসতে বিনা ভাড়ার
বাসের ব্যবস্থা থাকে এ সময়। মসজিদ এলাকায় রয়েছে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য ৭০টি শাটল
যান এবং ৫০টি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা। ধীরে ধীরে একসময় ভরে ওঠে মসজিদের প্রাঙ্গণ। কাছেই
শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত তাঁবুগুলোয় ইফতারের বাক্স মজুত।
নিরাপত্তা
পরীক্ষার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শনার্থীদের ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক সারি সারি সাজানো ইফতার
বাক্সের স্থানে সুশৃঙ্খলভাবে নির্দেশনা দিয়ে নিয়ে যান। ইফতার জোনের পাশেই থাকে পুলিশ,
জরুরি চিকিৎসাকর্মী আর বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী সদস্যদের উপস্থিতি।
মসজিদ
চত্বরের ১৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ইফতারের এ বিশাল আয়োজনের জন্য গালিচা বিছিয়ে বসার
ব্যবস্থা করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সুচারু পরিচালনায় সুশৃঙ্খলভাবে
ধাপে ধাপে পুরো আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। খেজুর, পানীয় ও স্বাস্থ্যকর খাবারের বাক্স দেয়া
হয় সবাইকে।
ইফতার
শেষে সবার গন্তব্য হয় শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদের অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনটির
দিকেই। মসজিদটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও আমিরাতের জাতির পিতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের
সমাধিও রয়েছে মসজিদের পাশে। ২ বিলিয়ন দিরহাম ব্যয়ে পারস্য মুঘল ও আলেকজান্দ্রীয় স্থাপত্যশৈলীর
অনুকরণে নির্মিত শেখ জায়েদ মসজিদে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় গালিচা, যা ৫ হাজার ৬২৭ বর্গমিটার
আয়তনের এবং রয়েছে বিশাল ঝাড়বাতি।
জায়েদ
গ্র্যান্ড মসজিদ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে
স্বীকৃত। মসজিদের পাশেই আছে শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সমাধি। আবুধাবির এই
গ্র্যান্ড মসজিদ তৈরির কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। প্রায় ৫৪৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১২ বছরে
এর কাজ শেষ হয়।
তথ্যসূত্র:
বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর