Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সিরিয়ানরা ঘরে ফিরছে; কিন্তু নিরাপত্তা পাবে কি?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ১২:০৫

সিরিয়ানরা ঘরে ফিরছে; কিন্তু নিরাপত্তা পাবে কি?

উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার শরণার্থী শিবির ও বাস্তুচ্যুতদের বসবাসের এলাকাগুলোতে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি মানুষ আগামী এক বছরের মধ্যে নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যার মধ্যে ৬ লাখ ব্যক্তি ছয় মাসের মধ্যেই ফিরে যেতে চান— এমন তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR)।

জাতিসংঘের মুখপাত্র সেলিন শমিট জেনেভায় জাতিসংঘের এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, "সিরিয়ার পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, যার ফলে অনেকেই স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।"

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে প্রায় ১.৪ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকট হিসেবে বিবেচিত। 

প্রায় ৭০ লাখ মানুষ এখনো সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৬৮ লাখ সিরিয়ান শরণার্থী হিসেবে বিদেশে বসবাস করছেন, যার বেশির ভাগই তুরস্ক (৩৫ লাখ), লেবানন (৮ লাখ), জর্ডান (৭ লাখ), ইরাক (২ লাখ ৫০ হাজার) এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে।

সিরিয়ার জনসংখ্যার ৯০% মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে, এবং প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭.৫ লাখ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি সিরিয়ায় তাদের নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর থেকে বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং লোকজন দেশে ফিরে আসতে শুরু করেছে।

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো দামেস্কসহ অন্যান্য বড় শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা ৬১ বছরের বাথ পার্টির শাসন এবং ৫৩ বছরের আসাদ পরিবারের শাসনের অবসান ঘটায়।

তবে বাস্তুচ্যুতদের ফিরে আসার এই ধারা সহজ নয়। অনেক এলাকাই এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে, মৌলিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং খাদ্য ও চিকিৎসার অভাব রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরিয়ার স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠনে বিশাল আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে।

"প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে, তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত না হলে মানুষ টেকসইভাবে বসবাস করতে পারবে না," বলছেন সিরিয়াভিত্তিক বিশ্লেষকরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে— বাস্তুচ্যুত সিরিয়ানরা কি তাদের নিজ দেশেই নিরাপদভাবে থাকতে পারবে, নাকি আবারো সংকটের মুখে পড়বে?

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা নিউজ

Logo