Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

৫০ হাজার ছুঁয়েছে মৃত্যু; উৎসব করো বিশ্ব!

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৫, ১০:৫৭

৫০ হাজার ছুঁয়েছে মৃত্যু; উৎসব করো বিশ্ব!

মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াল। উপত্যকার আকাশে এখনো ধোঁয়া, বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে ধ্বংসস্তূপে ঢাকা গাজা নগরী। লাগাতার হামলায় গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ও শিশু। হাসপাতালগুলোর শীতল মেঝেতে সারিবদ্ধ করে রাখা আছে নিহতদের মরদেহ। এদের মধ্যে কেউ ছিল মায়ের কোলের শিশু, কেউ বা বাবা-মায়ের হাত ধরে যুদ্ধের বিভীষিকা এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল।

খাদ্য সংকট ও দূর্ভিক্ষের ছায়াযুদ্ধের করাল গ্রাসে শুধু জীবন হারানো নয়, যারা বেঁচে আছেন তারাও প্রতিদিন লড়ছেন ক্ষুধার বিরুদ্ধে। খাদ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় গাজাবাসী দিশেহারা। বহুদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো এক টুকরো রুটি বা এক গ্লাস পানি পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। খান ইউনিসের ত্রাণ রান্নাঘরের সামনে হাজারো মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু খাবারের জোগান অপ্রতুল। ১৯ বছর বয়সী ইমান আল বারদাউইল বলেন, “রোজা চলছে, অথচ আমাদের খাবার নেই। একমুঠো চালের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।”

এক করুণ অধ্যায়; গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ছে শিশুদের স্বপ্ন, মায়েদের আর্তনাদ। ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু। মাত্র ছয় মাস বয়সী আয়েশা হামলার শিকার হয় তার মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়। বেঁচে যাওয়া মানুষদের কথায়, “আমরা জানি না, আমাদের পরের মুহূর্ত কেমন হবে। আমাদের শিশুদের জন্যও আমরা নিরাপত্তা দিতে পারি না।"

দূর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে থাকা গাজার চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের অভাবে অনেকেই ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। চিকিৎসকরা জানান, পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের শরীরে মারাত্মক রোগ বাসা বাঁধছে। হাসপাতালগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অস্ত্রোপচার করতে হচ্ছে মোমবাতির আলোয়। সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, গাজা এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে।

গণহত্যা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা

গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা চলছে, কিন্তু তাতে যেন কোনো পরিবর্তন আসছে না। বিশ্বনেতারা কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করছেন। জাতিসংঘ বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তা কার্যকর হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই নিষ্ক্রিয়তা গাজার অসহায় মানুষদের আরো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

দুর্যোগের মাঝেও বেঁচে থাকার লড়াই

যুদ্ধ, ক্ষুধা ও মৃত্যুর মাঝেও গাজার মানুষ বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চলছে। কেউ আশ্রয় শিবিরে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছেন, কেউ বা ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। আট বছরের আমাল বলল, “আমি শুধু স্কুলে যেতে চাই, আমার বন্ধুরা কোথায় আমি জানি না।”

গাজার এই নিদারুণ মানবিক বিপর্যয়ের শেষ কোথায়? বিশ্ব সম্প্রদায় কি এবারও নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে? প্রশ্নগুলো কেবল গাজার নয়, মানবতার।

মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট

Logo