গাজায় ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান পোপ ফ্রান্সিসের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৫, ১১:০২

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস। সেই সঙ্গে হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তির জন্য ফের সংলাপ শুরু করা এবং ‘সুনির্দিষ্ট যুদ্ধবিরতি’র আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর এএফপির।
২৩ মার্চ রোমের জেমেলি হাসপাতালে অ্যাঞ্জেলাসের প্রার্থনায় পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, গাজা উপত্যকায় এত প্রাণহানি ও আহত হওয়ার পর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু হওয়ায় আমি দুঃখিত।
ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি হন ৮৮ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা। তবে এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। রোববার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন তিনি এবং হাসপাতালের জানালা থেকে হাত নাড়িয়ে ভক্তদের আশীর্বাদ করেন।
পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার তাকে ছুটি দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রার্থনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন,
আমি অনুরোধ করছি যে অস্ত্র বন্ধ করে দেয়া হোক এবং পুনরায় সংলাপ শুরু করার সাহস হোক, যাতে সব জিম্মিকে মুক্ত করা যায় এবং একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো যায়।
পোপ ফ্রান্সিস আরো বলেন, ‘গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি আবারো অত্যন্ত গুরুতর রূপ নিয়েছে এবং এর জন্য অবসানে বিরোধী পক্ষগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি অঙ্গীকার প্রয়োজন।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানো শুরু করে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় ১৫ মাস ধরে গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়।
তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গত সপ্তাহে (১৮ মার্চ)) গাজায় ফের হামলা শুরু করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামলায় ওই দিনই প্রায় চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
সেই থেকে অবিরাম বোমাবর্ষণ চলছেই। আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান কোনো কিছু আমলে নিচ্ছে না ইসরায়েল।
২৩ মার্চ ৫৩৩তম দিনের মতো গাজাজুড়ে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে হামাসের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা সালাহ আল-বারদাউইলসহ অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ জন।
স্থানীয়দের দাবি, ওই বিমান হামলায় হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য বারদাউইল ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। তবে এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
তথ্যসূত্র: সময় টিভি