হাওলা বা হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে সংযুক্ত আরব আমিরাত কীভাবে সফল হলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৫, ১২:৩৫

হাওলা বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা, যা হুন্ডি নামেও পরিচিত; নিয়ন্ত্রণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা ইতোমধ্যে কার্যকর ফলাফল দেখাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি রুপি ও মিসরীয় পাউন্ডের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এবং স্থানীয় রেমিট্যান্স খাতের উপর সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চাপের ফলে হাওলা লেনদেন হ্রাস পাচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হাওলা পরিচালনা করতে পারবে না যদি তারা ‘হাওলা প্রোভাইডার সার্টিফিকেট’ না পায়। এটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অনিবন্ধিত হাওলা অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ফলে বাজারে তাদের প্রভাব কমছে।
আল আনসারি ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ডেপুটি সিইও মোহাম্মদ বিতার বলেছেন, “হাওলা পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন, তবে আমরা প্রধান রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশগুলোতে এর প্রবাহ হ্রাস হতে দেখছি।”
বিশেষ করে, পাকিস্তানি রুপি যখন ব্যাপক অস্থিরতার মধ্যে ছিল, তখন হাওলা লেনদেনের হার আনুষ্ঠানিক বিনিময় হারের তুলনায় ৯% বেশি ছিল, যা অনেককে হাওলার দিকে আকৃষ্ট করেছিল। কিন্তু বর্তমানে এই ব্যবধান ১.৫%-এ নেমে এসেছে, ফলে হাওলার প্রয়োজনীয়তা কমে যাচ্ছে।
হাওলা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
অবৈধ লেনদেন: হাওলা ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা পাঠানো নিয়ন্ত্রিত নয়, ফলে এটি মানি লন্ডারিং এবং অবৈধ অর্থ প্রবাহের ঝুঁকি তৈরি করে।
সরকারি রাজস্ব ক্ষতি: বৈধ রেমিট্যান্স চ্যানেলের পরিবর্তে হাওলা ব্যবহারের ফলে সরকার প্রাপ্য রাজস্ব পায় না।
সিকিউরিটি ঝুঁকি: হাওলার মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
WPS (Wage Protection System) এবং ব্যাংকিং সুবিধার সম্প্রসারণ
UAE সরকার WPS (Wage Protection System) চালু করেছে, যেখানে কম আয়ের শ্রমিকদের জন্য বেতন অ্যাকাউন্ট খুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বর্তমানে UAE-তে প্রায় ৭ মিলিয়ন বেসরকারি খাতের কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ২ মিলিয়ন কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
বাকি ৫ মিলিয়ন শ্রমিকের মাসিক আয় ৫ হাজার দিরহামের নিচে, ফলে তারা সহজেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন না।
এদের জন্য মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো WPS-এর মাধ্যমে বিশেষ হারে রেমিট্যান্স ও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে, যা হাওলার বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাওলা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা সফল হতে শুরু করেছে এবং আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স চ্যানেলগুলোর ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি রুপি ও মিসরীয় পাউন্ডের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এবং WPS ব্যবস্থার সম্প্রসারণ রেমিট্যান্স প্রবাহকে বৈধপথে আনতে সহায়ক হচ্ছে। ভবিষ্যতে হাওলা চ্যানেলের ব্যবহার আরো কমিয়ে আনতে সরকারি নীতিমালা ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ আরো জোরদার করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ