
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বিতাড়ন নিয়ে সোরগোল চলছেই।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে এই বিতাড়ন খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কিন্তু আসলেই
কি বিপুল সংখ্যক অভিবাসীদের তাড়িয়ে দিয়ে লাভবান হবে যুক্তরাষ্ট্র? বিভিন্ন গবেষণায়
কিন্তু দেখা যাচ্ছে অবৈধ অভিবাসীবিহীন যুক্তরাষ্ট্র এক সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক
সংকটে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির
জ্বালানী হচ্ছে এই বিপুল অভিবাসী মানুষগুলো।দেশটির আরও বেশি কর্মক্ষম মানুষের প্রয়োজন।আমেরিকায় দিনদিন জন্মহার কমছে, বেড়ে চলছে বয়ষ্কদের সংখ্যা। ফলে আশংকাজনকহারে
কমছে কর্মক্ষম শ্রমশক্তি। অভিবাসী ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা অবিলম্বে হ্রাস পেতে
শুরু করবে, নিয়োগকর্তারা কর্মী স্বল্পতায় ভুগবেন, অর্থনীতির সম্ভাবনা হ্রাস পাবে, যা
জনসেবা এবং সমাজের উপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সুতরাং, গণ বহিষ্কার, বা ভবিষ্যতের অভিবাসন কমালে মার্কিন জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হবে- এটা বলা যায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায়
রাখার জন্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর কয়েক লাখ লোকের অভিবাসন প্রয়োজন।তবে, অভিবাসনের
উপর নি:সন্দেহে প্রতিষ্ঠা করতে হবে নিয়ন্ত্রণ। এজন্য একটি কার্যকর আমেরিকান অভিবাসন
ব্যবস্থার জন্য মার্কিন নীতিতে তিনটি বড় পরিবর্তন প্রয়োজন:
১. মার্কিন সরকারকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে
অবৈধভাবে বসবাস এবং কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।
কংগ্রেসের উচিত দেশের সীমানা সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ করা এবং সীমান্তে
সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অস্থায়ী আশ্রয় ব্যবস্থার পুনর্গঠন করা।
কাজ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রে আসা থেকে মানুষকে
আরও বিরত রাখার জন্য, বিশেষ করে, অস্থায়ী ভিসায় বৈধভাবে দেশে প্রবেশের পর অবৈধভাবে
অবস্থানকারী অননুমোদিত কর্মীদের অনুৎসাহিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের বৈধতার
জন্য তাদের নিয়োগকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
২. মার্কিন কংগ্রেসের উচিত বৈধ অভিবাসনের
একটি সুশৃঙ্খল আইন প্রণয়ন করা, যার মধ্যে সরকারের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত
থাকবে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে উপকৃত হবে এমন জায়গাগুলিতে লোকেদের পরিচালনা এবং স্থানান্তর
ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা করা।
৩. যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিমধ্যেই বসবাসকারী
আনুমানিক ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীর সাথে মানবিক আচরণ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে
৩০ লাখেরও বেশি মানুষ যাদের শিশু অবস্থায়
এই দেশে আনা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে, অর্থনীতির একটি বিরাট অংশ
অভিবাসীদের শ্রমের উপর নির্ভরশীল, যাদের আমেরিকানদের সমান্তরাল বিবেচনা করে বেতন দেওয়া
হয়নি। এটি শোষণের একটি ব্যবস্থা, যা মার্কিন কর্মী এবং আইন মেনে চলা নিয়োগকর্তাদেরও
দুর্বল করে তোলে। এই দেশে জীবনের বেশিরভাগ যাপনকারী অভিবাসীদের নাগরিকত্বের পথ করে
দেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধির বিপরীতে ট্রাম্পের
দাবি যে, অভিবাসন মার্কিন কর্মীদের জন্য খারাপ। কারণ, আমেরিকানদের বিপরীতে অভিবাসীরা
আরও খারাপ পরিস্থিতি এবং কম বেতন গ্রহণ করতে প্রস্তুত। এদিকে, অভিবাসীরা তাদের উপার্জিত
অর্থ ব্যয় করার পাশাপশি, কর্মসংস্থানও তৈরি করে। সি.বি.ও. ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, ২০৩৪
সালের মধ্যে অভিবাসন বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদন ৩ শতাংশ
বেশি হবে।
তথ্যসূত্র: দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস – ১০.০১.২০২৫