
৩৪ কোটি মানুষের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ২০২০ সালের হিসেবে, মুসলিম জনগোষ্ঠির সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১.৩৪%। এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ২৬% শতাংশ শেতাঙ্গ, ১৮% এশিয়ান, ৯% আরব জাতিগোষ্ঠীর।
তবে কী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে?
আমেরিকার জনসংখ্যার প্রোজেকশন বলছে, মার্কিন দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে, যা ২০৫০ সালে দাঁড়াবে ৮০লাখে। অর্থনৈতিক, সামাজিক,শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক নানান ফ্যাক্টরের কারণে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো থেকে মানুষ যেতে চান মার্কিন দুনিয়ায়, স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চান না। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর,
মুসলিমদের আমেরিকায় অভিবাসনের পুরনো ধারা কী চালু থাকবে?
দ্বিতীয়বারের মতো আমেরিকার ক্ষমতার মসনদে বসে, ট্রাম্প প্রশাসনের মুখে ভিন্ন সুর। শপথ নেয়ার পরপরই, নতুন আদেশ জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাতে মুসলিম জনগোষ্ঠির কথা উল্লেখ না করলেও, বিশেষজ্ঞদের ধারনা, তাতে কোপানলে পড়তে পারেন দেশটির ভিনদেশী মুসলিম জনগোষ্ঠি, এমনকি মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশের মানুষ, যারা ভবিষতে মার্কিন দেশে যাবার পরিকল্পনা করছেন।
কিন্তু কী আছে সেই আদেশ?
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আদেশে বলা হয়েছে, যেসব মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির প্রতি শত্রুতাপূর্ণ ও নেগেটিভ মনোভাব পোষণ করবে, তাদের ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে।অভিবাসন নিয়ে এমন নির্বাহী আদেশে সইও করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নতুন এই আদেশে কীভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন মুসলিমরা?
ট্রাম্পের এই নতুন আদেশটির আওতায়, ভিসা-সংক্রান্ত অনুরোধ প্রত্যাখ্যান ও ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের দেশটি থেকে বের করে দেয়া আওতা আরো সম্প্রসারিত হবে। এর মধ্যে দিয়ে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের ওপর, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন আদেশে কারা পড়তে পারেন বিতাড়নের মুখে?
এর আওতায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে যারা সোচ্চার— বিদেশি এমন শিক্ষার্থীরাও পড়বে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী বিদেশি নাগরিক হলে— তাকে দেশ থেকে বহিস্কার করতে পারবে ট্রাম্প সরকার। আর যেহেতু, মুসলমানদের মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বেশি, তাই এটি কার্যত 'মুসলিম ব্যান' বা মুসলিমদের নিষেধাজ্ঞার রাস্তাই খোলা হয়েছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্টেন্স প্রজেক্টের কর্তাদের আশংকা, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞাটি আরো বৈষম্যমূলক এবং আগের চেয়েও খারাপ। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে খারাপ অংশটি হলো– শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের ওপরই তা কার্যকর হবে না, বরং একই যুক্তি দেখিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিদেরও বের করে দেওয়া যাবে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে এই ট্রাম্পের নতুন আদেশ কী কেবলই মুসলিমদের ওপরই?
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত দেশের, মানুষের ওপর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন তিনি। একই সাথে, সাম্যবাদী, মার্ক্সবাদী ও সমাজতান্ত্রিকেরা যেন যুক্তরাষ্ট্রে না ঢুকতে পারে, তা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।