উচ্চশিক্ষায় কানাডা গিয়ে লাপাত্তা ২০ হাজার ভারতীয় ছাত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫:৫৯

প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ছাত্র উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করতে কানাডায় পাড়ি দেন। কেন্দ্রীয় সরকারের গত অগস্ট মাসের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া বর্তমানে বিদেশে পাঠরত। তার মধ্যে শুধু কানাডাতেই ৪ লাখের উপরে। কিন্তু কানাডায় আসার পর প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থীর কোনও খোঁজ পায়নি সে দেশের সরকার। এই শিক্ষার্থীরা কোথায় আছেন তার কোনও রেকর্ড কানাডা সরকারের কাছে নেই।
২০২৫
সাল থেকে স্টুডেন্ট ভিসা ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার।
এরই মাঝে আরও এক সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে ভারতীয় ছাত্রদের নিয়ে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে
জানা গিয়েছে, কানাডায় আসার পর প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থীর কোনও খোঁজ নাকি
পায়নি সে দেশের সরকার। এই শিক্ষার্থীরা কোথায় আছেন তার কোনও রেকর্ড কানাডা সরকারের
কাছে নেই।
কানাডা
এবং ভারত, উভয় দেশকেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এই ঘটনা। কানাডার ‘ইমিগ্রেশন নিউজ়’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ‘ইমিগ্রেশন, রিফিউজ়ি অ্যান্ড সিটিজ়েনশিপ কানাডা’
বা ‘আইআরসিসি’ জানিয়েছে ৩৫৯,৭৮১ জন ভারতীয় শিক্ষার্থীর মধ্যে
১৯,৫৮২ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি!
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
যোগ দেওয়ার জন্য কানাডায় পৌঁছোনোর পর তাঁরা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত
করাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সব ‘নিখোঁজ’
ছাত্রদের অনেকেই আইআরসিসি-কে না জানিয়েই কলেজ পরিবর্তন করেছেন। অনেকে আবার পড়াশোনা
ছেড়ে কানাডাতেই কাজ করা শুরু করেছেন। তাই তাঁদের তথ্য দিতে পারেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি।
আর আইআরসিসি-র পরিসংখ্যান পুরোপুরি নির্ভর করে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির দেওয়া তথ্যের
উপরেই।
টাইম্স
অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডায় থাকার খরচ বহন করার জন্য বেশির ভাগ
শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার করে অদ্ভুত সব চাকরি বেছে নিয়েছেন। আর এঁদের
মধ্যে যাঁরা সত্যিই পড়াশোনা করার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে এ দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন
তাঁরা পড়েছেন বিপদে।
সুপরিচিত
বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আসনসংখ্যা সীমিত হয়ে যাওয়ায় ভর্তি হতে পারেননি অনেক ভারতীয় পড়ুয়াই।
তাঁরাই বিদেশি ডিগ্রি লাভের আশায় স্বল্পপরিচিত কলেজগুলির ভর্তির প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন।
আর এখানেই ঘটেছে বিপত্তি। কানাডায় গিয়ে ভর্তির সময় তাঁরা কলেজে যোগাযোগ করতে গিয়ে আবিষ্কার
করেছেন এই কলেজগুলির অধিকাংশই ভুয়ো। আবার কিছু কলেজে সমস্ত আসন ভর্তি হয়ে গিয়েছে।
কানাডায়
বহু ছাত্র রয়েছেন যাঁদের মাথার উপর ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা চেপে রয়েছে। সেই
ঋণ শোধ করার জন্য বেআইনি ভাবে উপার্জন করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীই
কানাডায় আসার পর বুঝতে পেরেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাওয়ার
পর তাঁরা সেখানে ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বা চাকরির ছাড়পত্র পাবেন না। কানাডায় ওয়ার্ক
পারমিট না থাকলে বৈধ ভাবে কোথাও কাজ করা সম্ভব নয়।
মূলত
গুজরাত, পঞ্জাব, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলি
থেকে সে দেশে যাওয়া ছাত্রদের অধিকাংশই অন্তত দু’টি শিফ্টে চাকরি করেন। কেউ রেস্তরাঁ, কেউ ডেলিভারি
সংস্থার কর্মী হিসাবে কাজ করে থাকেন ও ঘণ্টায় ডলারের হিসাবে রোজগার করেন।
কানাডায়
বিদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আগে থেকে পুরো টিউশন ফি জমা দিতে হয় না। এই নীতির কারণে
পড়তে আসার নাম করে শিক্ষার্থীরা বড় বড় শহরে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন কাজ করতে শুরু করেন।
বেশ কিছু ছাত্র অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশের জন্য কানাডাকে প্রবেশদ্বার হিসাবে ব্যবহার
করেন। ভিসা ছাড়া বেআইনি ভাবে ভারতীয়দের আমেরিকায় পাঠানোর কাজে জড়িত একাধিক চক্র।
অর্থনীতিবিদ
এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞ হেনরি লটিন সংবাদমাধ্যমে জানান, তাঁর ধারণা নিখোঁজ ভারতীয় ছাত্রদের
বেশির ভাগই সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারেননি। তাঁরা এখনও কানাডায় কাজ
করছেন এবং স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
তথ্যসূত্র:
দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা- ১০.০২.২০২৫