ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি: চিন্তায় নতুন অভিভাবকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৪৮

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি বাড়ানোর যে পরিকল্পনা করেছিলেন, তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অভিবাসী সম্প্রদায়ের উপর গভীরভাবে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষত, এই নীতিগুলি নতুন বাবা-মায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার নীতি অনুসারে, মার্কিন মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে, যা বিশেষত এইচ-১বি ও অন্যান্য অস্থায়ী অভিবাসন ভিসাধারীদের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন
নীতির মূল বিষয়বস্তু
ট্রাম্প
প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা বলেছিল,
যা সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। সাধারণত, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী
যে কোনও শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। কিন্তু, নতুন নীতির আওতায়
যদি বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে তাদের সন্তানের নাগরিকত্ব
পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না।
পরিসংখ্যান
ও বাস্তবতা
জন্মসূত্রে
নাগরিকত্ব: পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া
৩.৭ মিলিয়ন শিশুর মধ্যে প্রায় ২ লাখ শিশু অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান। এই শিশুদের
নাগরিকত্ব নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এইচ-১বি
ভিসাধারীদের সংখ্যা: মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট জানায়, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৫
লাখের বেশি ভারতীয় এবং ২ লাখের বেশি বাংলাদেশি এইচ-১বি ভিসাধারী ছিলেন। তাদের বেশিরভাগই
অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিত্তিক অভিবাসী, যারা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের জন্ম দিতে চাইলেও
নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।
নথিপত্রহীন
অভিবাসীদের সংখ্যা: ২০২২ সালের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১১ মিলিয়ন নথিপত্রহীন
অভিবাসী রয়েছে। তাদের সন্তানদের নাগরিকত্বের অধিকারও এখন হুমকির মুখে।
নতুন
অভিভাবকদের সামনে চ্যালেঞ্জ
১.
নাগরিকত্ব না পাওয়ার শঙ্কা:
জন্মসূত্রে
নাগরিকত্ব হারালে শিশুদের অভিবাসন মর্যাদা নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হবে।
নতুন
নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অনেক শিশু রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়তে পারে, কারণ তাদের
জন্মের পর তারা কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিতভাবে পাবে না।
শিক্ষা
ও স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা:
নাগরিকত্ব
না থাকলে শিশুরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
বিভিন্ন
রাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নাগরিকত্বধারী শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকলেও,
নতুন নীতির ফলে অনেক অভিবাসী শিশুরা সেসব সুবিধা পাবে না।
পরিবারের
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
অনেক
অভিবাসী বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে অন্য দেশে সন্তান জন্মদানের কথা ভাবছেন।
নতুন
নীতির ফলে, অনেক দক্ষ অভিবাসী কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে যেতে পারেন।
সমাধানের
উপায়
আইনি
চ্যালেঞ্জ: ইতোমধ্যে ফেডারেল আদালতে ট্রাম্পের এই নীতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের
করা হয়েছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী জন্মগত নাগরিকত্বের অধিকার রক্ষিত
আছে, যা আইনিভাবে পরিবর্তন করা সহজ নয়।
প্রতিবাদ
ও জনমত গঠন: অভিবাসী সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই নীতির বিরুদ্ধে সরব
হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নীতি পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক জনমত তৈরি
হতে পারে।
পরিকল্পিত
অভিবাসন: অভিভাবকদের উচিত আগেভাগেই নিজেদের অভিবাসন কাগজপত্র ও স্থিতি সম্পর্কে সচেতন
হওয়া এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা গ্রহণ করা।
ট্রাম্পের
নতুন অভিবাসন নীতি নতুন বাবা-মা এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি
করতে পারে। নাগরিকত্ব হারানোর সম্ভাবনা শুধুমাত্র শিশুদের নয়, বরং পুরো অভিবাসী সম্প্রদায়কে
প্রভাবিত করবে। তাই, অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যে তারা আইনগত পরামর্শ
গ্রহণ করে এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সচেতন থাকে।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট