মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের অভিমত- প্রথম পর্ব
ডাটা ব্যাংক শক্তিশালী হলে দালালের দৌরাত্ম্য কমবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৫, ১২:৫৪

সরকার বা রিক্রুটিং এজেন্সি কারো কাছে নেই বিদেশ যেতে চাওয়া মানুষের পূর্ণাঙ্গ তথ্য। ডাটা ব্যাংকে সবার তথ্য থাকলে এজেন্সিগুলো জানতে পারতো বিদেশে যেতে চাওয়া কর্মীদের যোগ্যতা, চাহিদা ও তাদের হালনাগাদ অবস্থান। ডাটা ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে এজেন্সিগুলো বাছাই করতে পারতো যোগ্য কর্মীদের।
তারপরও কাজের সন্ধানে মানুষ যাচ্ছেন বিদেশে। যাদের বেশীর ভাগই গ্রামগঞ্জের। তারা চেনেন না রাজধানীর রিক্রুটিং এজেন্সি। জানেন না কী করে যেতে হবে বিদেশে। সেখানে চাকরির খোঁজ জানা তো দূরের কথা। কিন্তু যেনতেন উপায়ে, একটা কাজের আশায় বিদেশ যেতে তারা মরিয়া।
ফলে, সেই সব মানুষগুলোকে বাধ্য হয়ে যেতে হয় দালালের কাছে। দালালরা বিদেশ যেতে চাওয়া মানুষদের সাহায্য করে থাকে। তারা কাজ করে নানান রিক্রুটিং এজেন্সির হয়ে। কিন্তু দালালদের বিরুদ্ধে ঠগবাজির বেশুমার অভিযোগ। সাধারণ মানুষকে জীবনের সব সঞ্চয় বিক্রি করে বিদেশ যাবার টাকা জোগাড় করতে হয়। অনেকে বিশ্বাসের ওপর ভর করে সেই টাকা তুলে দেন দালালের হাতে। কখনো দালালরা সেই টাকা মেরে দিলে নিঃস্ব হয়ে যান বিদেশ যেতে চাওয়া মানুষটি। আর বিদেশ যেতে পারলেও, দালালের কারণে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। কিন্তু এই দালালের হাত থেকে মুক্তির কী কোন উপায় আছে?
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সদ্য সাবেক যুগ্ম মহাসচিব জনাব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এনিয়ে কথা বলেছেন মাইগ্রেশন কনসার্নের সাথে। জনাব ফখরুল ইসলামের অভিযোগ দালালদের কারণেই, বিদেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা প্রতারিত হন। দালালরাই কর্মীদের বিদেশে পাঠাতে অনেক তথ্যের গ্যাপ রাখে। তারা কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে বলে। এক কাজের কথা বলে অন্য কাজ দেয়। অতি লোভনীয় অফার করে থাকে। এই সব তথ্য গ্যাপের কারণে বিদেশে গিয়ে সমস্যার পড়েন কর্মীরা।
জনাব ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, দালালরা এখন অনেকটা আউট অব কন্ট্রোল। তিনি বলছিলেন, অনেক মিডলম্যান, যাদের আমরা দালাল বলছি, তারা কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোন এজেন্সির হয়ে কাজ করে না। এক ব্যক্তি ৫টা, ৭টা, ১০টা এজেন্সির হয়েও কাজ করে। তাহলে সেই লোকটা আসলে কোন এজেন্সির? এটা কিন্তু সুনির্দিষ্ট না। যেখানে সে সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই কাজ করছে। আবার আমার সাথে যুক্ত থাকলো কিন্তু আমার হাতে কাজ নাই। আমি চাহিদা মতো কাজ দিতে পারলাম না। তাহলে তো আমার সাথে সে থাকবে না। সুতরাং, মিডলম্যানের ক্ষেত্রে যে জিনিসটা হচ্ছে, তাদের আইনের মধ্যে আনা হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি সমাধানটা এভাবে হবে না। এভাবে দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো যাবে না।
তাহলে দালালের দৌরাত্ম্য কমবে কীভাবে?
জনাব ফখরুলের মতে, মিডলম্যানদের নিয়ন্ত্রণে সরকার যে প্ল্যানটা করেছে, সেটা সরকার করতে পারে। তাহলে সরকারকেই তাদের বৈধতা মানে বিএমইটিকেই লাইসেন্সটা দিতে হবে। কারণ দালালরা যদি কোন অনিয়ম করে, অতিরিক্ত টাকা নেয় বা কর্মীদের কোনভাবে প্রতারণা করে, তাদের নিয়ন্ত্রণ আর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।
রিক্রুটিং এজেন্সি তো তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারবে না। দালালরা সরকারের আন্ডারে থেকে রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে কাজ করবে। যদি কোন ঝামেলা থাকে তাহলে সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করবে।
ডাটা ব্যাংক শক্তিশালী করতে হবে:
জনাব ফখরুল জানালেন, এ সংক্রান্ত আইনে বলা হয়েছে এজেন্সিগুলো কর্মী রিক্রুটমেন্ট করবে ডাটা ব্যাংক আর মিডলম্যানের মাধ্যমে। ডাটা ব্যাংক আবার আরেক ধরনের ডিজিটাল মিডলম্যান। সেখানে কর্মীদের সব ডাটা এন্ট্রি করা হবে। তারা কোন দেশে যেতে চায়, কোন ক্যাটাগরিতে যেতে চায়, কখন যেতে চায়, কর্মীদের কী কী যোগ্যতা আছে। এগুলো ডাটা ব্যাংকে থাকবে। সেই অনুযায়ী যখন কোন রিক্রুটিং এজেন্সির ৫০জন কর্মীর ডিম্যান্ড আসবে তখন বিএমইটিকে বলবে যে, আমাকে ১০০জনের নাম দাও। সেখান থেকে ৫০জনকে বাছাই করা হবে। তাতে কিন্তু আর কোন মিডলম্যানের দরকার হচ্ছে না। আর মিডলম্যান মানেই কিন্তু ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা এমনকি সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত তারা নিয়ে থাকে। ফলে, ডাটা ব্যাংক শক্তিশালী ও কার্যকর করা হলে কর্মীদের মাইগ্রেশন খরচ কিন্তু কমে যাচ্ছে।
কর্মীদের তথ্যের যে গ্যাপটা হয়, যেমন বিদেশে তারা কত টাকা বেতন পাবেন, ঐখানে থাকার জায়গা কোথায়, কী কাজ করবে, এই বাড়তি কথা বলে যে মিডলম্যান কর্মীদের ইমপ্রেস করে, ঐ জায়গাটিতেও মনে হয় গ্যাপ কমে যাবে। কর্মীদের বিদেশ যেতে খরচও কমে যাবে।
জনাব ফখরুলের মতে, মাইগ্রেশন কে নিরাপদ করার জন্য ডাটা ব্যাংকটাকে যদি সচল করা যায় তাহলে কর্মীরা নিরাপদ থাকবে, মাইগ্রেশন খরচও কমবে। এটা সবার জন্যই একটা উইন উইন সিচ্যুয়েশন তৈরি করবে।
রিপোর্ট মাইগ্রেশন কনসার্ন।