Logo
×

Follow Us

মতামত

মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের অভিমত - দ্বিতীয় পর্ব

বিদেশ পাঠাতে দক্ষ কর্মীর বিকল্প নাই

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৫, ১৫:১৭

বিদেশ পাঠাতে দক্ষ কর্মীর বিকল্প নাই

দেশ থেকে কর্মীরা পৃথিবীর নানান গন্তব‍্যে যাবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের বেশির ভাগের নেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ। নেই বিশেষ কোন কাজের দক্ষতা। কিন্তু কী করে বাড়ানো যাবে কর্মীর দক্ষতা? কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সংকট কোথায়?  মাইগ্রেশন কনসার্নের সাথে এনিয়ে মতামত দিয়েছেন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। 

আমরা ন‍্যাচারালি যে ট্রেডে কর্মী পাঠাই সেখানে দক্ষ কর্মী দরকার। সারা পৃথিবীতেই দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি। দক্ষ জনশক্তি নিয়ে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এক : কোন কাজের ডিম‍ান্ডটা আছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে তো আমাদের ডিমান্ডও তৈরি করতে হবে। দেশে যখন দক্ষতার ডিমান্ড থাকবে তখন কিন্তু  কর্মীদের দক্ষতা তৈরির ব‍্যাপারে আমরা উৎসাহিত হবো। কর্মীরাও উৎসাহিত হবে। সেটাকে নিশ্চিত করতে হবে। আর দক্ষতার ডিম‍ান্ড সারা পৃথিবীতে আছে। দক্ষতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নাই। 

আমাদের হয়েছে কী, দেশের কর্মীরা যে তিন মাস, ছয়মাস একটা কাজ শিখবে এই ধৈর্য‍্য তাদের নাই। ব‍্যাপারটা এমন যে যখন সিদ্ধান্ত নেয় বিদেশ চলে যাবে তো এখনই চলে যাবে। এমন একটা ভাব তাদের। 

কিন্তু দেখেন দক্ষতা যদি বৃদ্ধি করা যায় তাহলে দুইটা লাভ। এক: দক্ষকর্মী কিন্তু কম পয়সার বিদেশ যেতে পারে। দুই: তারা বিদেশ যাবার পরে বেতন পায় বেশি। আরেকটা বিষয় আছে তারা কিন্তু প্রতারিত হয় কম। তাদের প্রতারিত করার সুযোগ নাই কারণ এটা সুস্পষ্ট যে, সে ওয়েলডিং কাজে যাবে। সে কিন্তু লেবারের কাজে যাবে না। ওয়েলডারের বেতনও বেশি। বিদেশ যেতে খরচ কম, প্রতারিত হবার সুযোগও কম। 

স্কুল কলেজ থেকেই শুরু করতে হবে:

বাংলাদেশের বড় সংখ‍্যক মানুষ কিন্তু বিদেশে যাচ্ছে, আপনি দেখবেন যে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৫লাখ লোক জব মার্কেটে আসে। এর মধ‍্যে অর্ধেককে আমরা বিদেশে কর্মসংস্থান করি। এই অর্ধেক মানুষের কথা মাথায় রেখে যদি তাদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়া যায় তাহলে, আমাদের কাজটা শুরু করতে হবে স্কুল থেকে। 

স্কুলেই তারা আবশ‍্যিকভাবে একটা স্কিলড্ হবার সাবজেক্ট পড়বে। কেউ ইলেকট্রিশিয়ান হবে, কেউ ওয়েলডার হবে। কেউ পেইন্টার হবে। এমন করে স্কুল থেকে যদি আমরা ছেলে মেয়েদের একটা কাজ শিখিয়ে দিতে পারি তাহলে কিন্তু দক্ষ মানুষ সেখান থেকে তৈরি হয়ে আসবে। ইমপ্লিমেন্টেশন হতে হয়তো সময় লাগবে, সরকার চাইলে এটা করতে পারে। 

টিটিসিগুলোকে কার্যকর করতে হবে: 

আমাদের সারা দেশে যে ২০৫টি  টিটিসিগুলো আছে, মানে সরকারি টেকনিক‍্যাল ট্রেনিং সেন্টার, সেগুলোতে প্রোপার ইউটিলাইজড্ করে, ছেলেপেলেদের ধরে ধরে বিনা পয়সার কাজগুলো শেখানো উচিত। দেশের স্বার্থে, কর্মীদের স্বার্থে কাজ শেখানো উচিত। এই জায়গাটিতে বেশি বেশি করে সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। সরকারকে এই কাজগুলোর ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে। একদম গ্রামে গ্রামে উপজেলায় উপজেলায় সচেতন করে, প্রতি মাসে সুনির্দিষ্ট করে ভর্তি করে যদি মানুষকে কাজ শেখানো যায় তাহলে, এটা আমাদের জন‍্য বড় এচিভমেন্ট হবে। 

সেই টিটিসিগুলো থেকে প্রতিদিন কতজন কর্মী বেরুচ্ছে, কত কর্মী ঢুকছে, মাসে, বছরে কত কর্মী আসছে-বেরুচ্ছে সেই ডাটাটা কিন্তু আমাদের কাছে নাই। বিএমইটির কাছে আছে কিনা সেটা নিয়েও আমার সন্দেহ। 

আমার মনে হয়, এই টিটিসিগুলো, দেখেন এতো বড় বড় ইনফ্রাসক্ট্রাকচার, এতো খরচ হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে কী বেরুচ্ছে, কারা বেরুচ্ছে তাদের খোঁজ রাখা দরকার। 

দক্ষকর্মী তৈরি করতে রিক্রুটিং এজেন্সির দায় কতখানি?

রিক্রুটিং এজেন্সি যখন কোন ডিম‍্যান্ড পায়, তখন তারা কিন্তু দক্ষ লোকই পাঠায়। আর অদক্ষ লোকের প্রয়োজন হলে সে অদক্ষই পাঠায়। যখন এজেন্সিগুলো দক্ষ লোক না পায় তখন সে দক্ষ লোক তৈরি করে। অনেক প্রাইভেট ট্রেনিং সেন্টার আছে, রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকানাধীনও আছে। পার্সোনালও আছে। এভাবে জনশক্তি দক্ষ করেই কিন্তু বিদেশে পাঠানো হয়। যেমন ওয়েল্ডার পাঠানেরা ডিম‍্যান্ড এসেছে, সেখানে কিন্তু আমি লেবার পাঠাতে পারবো না। ওয়েল্ডারই পাঠাতে হবে। না থাকলে ওয়েল্ডারই খুঁজে বের করতে হবে। না হলে কাজ শিখায়া পরে পাঠাতে হবে। রিক্রটিং এজেন্সিগুলো তাই করছে। 

আমরা রেমিট‍্যান্সের কথা বলি, কিন্তু এটা জানা দরকার যে, বিদেশে একজন অদক্ষ লোকের তুলনায় দক্ষকর্মীর বেতন দেড় থেকে দুইগুণ বেশি হয়।

আমরা যদি দক্ষ লোক দেশের বাইরে পাঠাতে পারি তাহলে কিন্তু আমাদের রেমিট‍্যান্সও দেড় থেকে দুইগুণ বেড়ে যাবে। সেই জায়গা থেকে বিপুল জনগোষ্ঠি যারা দেশের বাইরে যেতে চায় তাদের দুই একটি কাজে দক্ষ হতেই হবে।  

চলবে… 

Logo