Logo
×

Follow Us

মতামত

বিশেষ সাক্ষাৎকার (দ্বিতীয় পর্ব) - ড. তাসনিম সিদ্দিকী

শ্রমবাজারের এক দেশ কেন্দ্রিকতা আমাদের ঝুঁকিতে ফেলবে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৫, ১৬:০৪

শ্রমবাজারের এক দেশ কেন্দ্রিকতা  আমাদের ঝুঁকিতে ফেলবে
ড. তাসনিম সিদ্দিকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর মূল গবেষণা আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিয়ে। ‘রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট- রামরু'র তিনি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার। অন্তর্বর্তী সরকারের ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির একজন সদস্য তিনি। অভিবাসন সমস্যা ও শ্রমবাজার নিয়ে মাইগ্রেশন কনসার্নের সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন ড. সিদ্দিকী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শোভন আরেফ।

মাইগ্রেশন কনসার্ন: বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এই মুহুর্তে অভিবাসন বা মাইগ্রেশনের গুরুত্বকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী: বাংলাদেশের অর্থনীতি যে দুটো বা তিনটি খাতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে ‘অভিবাসন’ একটি। এই অভিবাসনের গুরুত্ব যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে আমরা দেখবো- যে বৈদেশিক এইড বা ঋণ আমাদের দেশে আসছে- তার তুলনায় ৪.৪০ শতাংশ বেশি আসছে এই রেমিট‍্যান্স। সরাসরি যে বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্ট আমাদের দেশে আসছে, তার থেকে অন্তত ৭গুণ বেশি আসছে রেমিট‍্যান্সে। আবার এই রেমিট‍্যান্স যে সব পরিবারে যাচ্ছে, সেই পরিবারগুলো কিন্তু দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করছে। আর যে কোনো সাধারণ নন-মাইগ্রেন্ট পরিবার থেকে তার পরিমাণও ৪০ভাগ বেশি। সুতরাং, এ থেকেই অভিবাসনের গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়। আর অন্যদিকে যদি রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করি, আমাদের যে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন তার অর্ধেকেরও বেশী মেটে আমাদের প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দিয়ে।

মাইগ্রেশন কনসার্ন: দেশের ভেতরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তের ফলে অভিবাসন ক্ষেত্রে কি কোনো প্রভাব পরেছে?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী: জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে যে একটা পট পরিবর্তন হয়েছে, এর ফলে পূর্বের কতগুলো সমস্যা এখন সমাধানের দিকে যাবার চেষ্টা চলছে। প্রথমেই যদি আমরা বিবেচনা করি, তবে এই লেবার মাইগ্রেশন প্রসেস এর ভেতরেই অনেক রকম অব্যবস্থাপনা রয়েছে। এখন কাজ হলো, সেই অব্যবস্থাপনাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তার একটা সমাধানের দিকে যাওয়া।

মাইগ্রেশন কনসার্ন: এই নতুন সময়ে এসে শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কি নতুন কৌশল নেয়া প্রয়োজন?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী: প্রথম যদি আমরা চিন্তা করি যে, প্রতি বছর যে বিশাল সংখ্যায় অভিবাসী বিদেশে যান; যেমন ২০২৩ সালে ১৩ লাখ অভিবাসী বিদেশে গেছেন। এই যে লাখ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, এখন এর বাজারের দিকে যদি আমরা তাকাই তো দেখবো বাংলাদেশ সব সময় যে কোনো একটি দেশের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ধরুন, আমাদের দেশ থেকে মানুষ যদি সৌদি আরবে যেতে শুরু করে তো শুধু সৌদি আরবেই যেতে থাকে। যেমন গত বছরের আগের বছর প্রায় ৬ লক্ষ লোক শুধু সৌদি আরবেই গিয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ অভিবাসীই একটি দেশে চলে যাচ্ছে। তেমনি যখন আবার মালয়েশিয়ার বাজার খোলে, তখন দেখা যায় শুধু মালয়েশিয়াতেই যাচ্ছেন। এর, ফলে হয় কি, দুই-তিন বছর এরকম একটি দেশে অনেক বেশি সংখ্যক যেতে যেতে তারপরেই কিন্তু সেই মার্কেটটা বন্ধ হয়ে যায়! তারা বলে দেয় আর নেবো না বাংলাদেশ থেকে- অনেক লোক তো গেছে। এই যে একদেশ কেন্দ্রীক বাজার নির্ভরশীলতা, এটি আমাদেরকে একটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখেছে। এরকম পরিস্থিতি যে কোনো সময় আমাদের ‘বাজার’টিকে বন্ধ করে দেয়।

এ কারনে যে নতুন শ্রমবাজার খুঁজবো এবং পুরনো বাজারকে স্থিতিশীল রাখবো, এর জন্যে যে একটি একশন প্ল্যান বা কৌশল দরকার, এটি নিয়ে কাজ করা দরকার, দক্ষতা বাড়ানো দরকার- সেই জায়গাগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করার এখন সময় এসেছে।

চলবে...

Logo