মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের অভিমত - তৃতীয় পর্ব
নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৫, ১৬:৪৭

১৯৭৬ সাল থেকে বিশ্বের শ্রমবাজারে আমাদের দেশের কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছিলো। ঐ যেটা মধ্যপ্রাচ্য থেকেই শুরু হয়েছিলো, এখনো কিন্তু সেটা মিডল ইস্টের মধ্যেই আটকে আছে। এখনকার যে সিচ্যুয়েশন তা খুব বেশি ভালো তা বলা যাবে না। কারণ আমাদের বেশ কয়েকটা মার্কেট কিন্তু বন্ধ।
এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবের। যেখানে আমরা নানান সমস্যা আমরা ফেস করছি। একদিকে হচ্ছে কর্মীদের দেশটিতে থাকা, খাওয়া ও আকামার একটা সমস্যা। আরেক দিকে আমাদের বিএমইটি, মন্ত্রণালয়ের নতুন নতুন নিয়ম কানুন চালু করেছে। এই নিয়ম কানুনের যাঁতাকলে পড়েও আমাদের সদস্যরা নানান ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। কর্মীরাও হয়রানী হচ্ছে। সেখানে আমাদের এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মিডল ইস্টে আমাদের অনেকগুলো শ্রমবাজার বন্ধ, দুবাই বলেন, ওমান বলেন, বাহরাইন বলেন, কাতার বলেন…সেখান খুব একটা শ্রমিক যাচ্ছে না। বলতে পারেন অলমোস্ট বন্ধ। এর মধ্যে আমাদের থার্ড মোস্ট শ্রমবাজার মালয়েশিয়াও বন্ধ আছে।
তো আমাদের বড় বড় শ্রমবাজার অনেকগুলোই কিন্তু বন্ধ। সেজায়গাতে আমাদের এই শ্রমবাজারগুলো উদ্ধার করতে হবে। একই সাথে ইউরোপের যে মার্কেটটা সেটাও ধরতে হবে। ইউরোপের শ্রম বাজারের অনেকগুলো সমস্যা আছে। সেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে, যাতে স্মুথলি কর্মী পাঠাতে পারি, সে ব্যবস্থা আমাদের করা দরকার।
এখানে ইউরোপের যে শ্রমবাজার, সেখানে অনেকগুলো বাধা আছে।সেখানে কিন্তু দেখবেন যেসব দেশ কর্মী নিতে চায়, তাদের এদেশে এ্যাম্বেসি নাই, কনস্যুলেট সেবা নাই, কর্মীদের ভিসা করতে গেলে আমাদের ভারত যেতে হয়। অথবা তৃতীয় অন্য কোন দেশে যেতে হয়। তো এমন অবস্থায় সেই দেশে যেতে হলে আগে থার্ড কান্ট্রির ভিসা নিতে হয়, তারপর যে দেশে যেতে হবে সেই দেশের ভিসা নিতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় থার্ড কান্ট্রির ভিসাই তো অনেক সময় পায় না কর্মীরা। যেমন, দেখেন ইন্ডিয়ার ভিসাই তো এখন পাওয়া যাচ্ছে না।এটাই তো বড় প্রবলেম। তো কেউ যদি রোমানিয়া যেতে চায় তাহলে তাকে ভারত যেতে হয়, বহুদিন অপেক্ষা করতে হয়, ভিসা পায় না।
এমন বাস্তবতায় সরকারের একটা উদ্যোগ নেয়া দরকার, যে দেশগুলোতে আমাদের কর্মী পাঠানোর সুযোগ আছে, এখন যাচ্ছে বিশেষ করে, ইউরোপের রোমানিয়া, পোল্যান্ড, চেকোশ্লোভাকিয়া, কিংবা জার্মানি বলেন, অনেক দেশ আছে যেখানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট সেবা নাই। কূটনৈতিক তৎপরতা করে এসব দেশের কনস্যুলেট সেবাটা চালু করা দরকার। অথবা সাময়িকভাবে এখানে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বা ভিএফএসের মাধ্যমে যাতে আমাদের দেশের শ্রমিকরা ভিসার জন্যে পাসপোর্টটা জমা দিতে পারে এমন একটা ব্যবস্থা করা দরকার। এটা সাকসেসফুল করতে হবে।
আরেকটি বিষয় দেখেন, জাপানে আমাদের দেশ থেকে কিছু কিছু কর্মী যাচ্ছে কিন্তু সেটা খুব কম। এই জায়গায় সবচেয়ে বড় বাধা হলো জাপানের ভাষা শিখতে হয়। এটায় কিন্তু ছয়মাস বা এক বছর লেগে যায়। তো এখানে সেভাবে এ্যাফোর্টটা দেয়া যায় না। কর্মীরাও এতো দিন অপেক্ষা করতে চায় না।
এটা যদি এভাবে করা যায় যে, আগে ইন্টারভিউ নিয়ে লোক সিলেক্ট করে তারপর কাজ বা ভাষা শিখানো হয় তাহলে অন্তত কর্মীরা নিশ্চিত হতে পারবে যে তারা জাপান যেতে পারবে। যদি সে জানে যে সে ঐ কোম্পানিতে, ঐ সময় যেতে পারবে, এই বেতন পাবে তাহলে সে উৎসাহিত হবে ভাষা শিখতে, কাজ শিখতে।
এই যাওয়ার বিষয়টি যদি আমরা সহজ করি তাহলে কিন্তু ভালো হয়। জাপানে কিন্তু আমাদের দেশ থেকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ আছে। তাই নতুন বাজার সৃষ্টি এখন একটা সময়ের দাবি।