Logo
×

Follow Us

অন্যান্য

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা অর্ধেক কমে যাবার শঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৫, ১১:১৩

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা অর্ধেক কমে যাবার শঙ্কা

 জরুরি তহবিল সংগ্রহ করা না গেলে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাসিক খাদ্য সহায়তা অর্ধেকে নেমে যেতে পারে শঙ্কা জানিয়েছে, জাতিসংঘ। জাতিসংঘ আরো জানিয়েছে, আসছে এপ্রিল মাস থেকে রোহিঙ্গা প্রতি সহায়তা ১২.৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলার করা হতে পারে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে ক্ষুধার পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ব্যবস্থাপনার শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, "গতকাল আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে এবং আজ আমি একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে বলা হয়েছে যে ১লা এপ্রিল থেকে রেশন ৬.৫০ ডলার কমানো হবে।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে যা পাচ্ছে সেটাই যথেষ্ট নয়, তাই নতুন এই কাটছাঁটের পরিণতি কল্পনা করা কঠিন।"

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর ঢাকা অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হলে এই কাটছাঁট এড়ানো যেতে পারে। সংস্থাটি রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি তহবিল হিসেবে ৮১ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

প্রেক্ষাপট ও সংকটের গভীরতা

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে, যারা মূলত ২০১৬-২০১৭ সালে মিয়ানমার-এর সামরিক নিপীড়নের কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। এই শরণার্থীদের কর্মসংস্থান বা শিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত।

২০২৩ সালে যখন রেশন ৮ ডলারে কমিয়ে আনা হয়েছিল, তখন ৯০% শরণার্থী পর্যাপ্ত খাদ্য পেতে হিমশিম খাচ্ছিল এবং ১৫% শিশুর মধ্যে মারাত্মক অপুষ্টির হার দেখা গিয়েছিল, যা শরণার্থী শিবিরে রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ ছিল। এই সংকটের কারণে পরবর্তীতে রেশন কাটা বাতিল করা হয়।

এবার রেশন আরও কমিয়ে ৬ ডলার করা হলে, প্রতিদিন একজন শরণার্থী মাত্র ২৪ টাকা মূল্যের খাবার পাবে। তুলনামূলকভাবে, একটি কলার দাম ১০-১২ টাকা এবং একটি ডিমের দাম ১২-১৪ টাকা। এ থেকে বোঝা যায়, এই সহায়তা ন্যূনতম মানবিক চাহিদাও পূরণ করতে পারবে না।

আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাব ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা, ২০২৪ সালে তারা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি সাহায্য কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরের হাসপাতাল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পগুলোতে অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে পাঁচটি মার্কিন-অর্থায়িত হাসপাতাল তাদের সেবা সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।

এই সংকট রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জরুরি সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠবে। এখনই আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Logo