বিদেশে নিশ্চিত চাকরীর সুযোগ
অল্প টাকায় স্বল্প সময়ে কেয়ার গিভার কোর্স

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৫, ০৯:৫০

সারা পৃথিবীতেই কেয়ার গিভার কাজের চাহিদা বাড়ছে। জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া সবখানে এই কাজের জন্য লোক দরকার। দিনকে দিন এই কাজের জন্য লোক খুঁজছে বিভিন্ন দেশ।
কেয়ার গিভারের কাজ কী: কেয়ার গিভার মানে পরিচর্যাকারী। মানে রোগী, বয়স্ক মানুষ, শিশুদের যত্ন করা। তাদের সাহায্য করা।
আমাদের পরিবারে শিশু, বয়স্ক সদস্য বা শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম কেউ যখন স্বাভাবিক রুটিন কাজগুলো করতে পারে না। তখন তাদের প্রিয়জনদের সেবার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাদের পরিচর্যা বা যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসময় প্রয়োজন হয় কেয়ার গিভারের।
ধরুন একজন বৃদ্ধ মানুষ যিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না। তাঁর সাহায্যের জন্য লোকের দরকার হয়। তাঁকে সময় মতো ঔষুধ খাওয়ানো, পালস্, ব্লাড প্রেসার চেক করা, ব্লাড সুগার দেখা, শ্বাস প্রশ্বাস মনিটর করা, রেকর্ড করা, রিপোর্ট করা, কখনো তাঁকে নিয়ে হুইল চেয়ারে ঘুরতে বের হওয়া ইত্যাদি নানান কাজ।অর্থাৎ মানবিক ভালোবাসার চাই মানুষের জন্য। তাই কেয়ার গিভিং এর চাহিদা সব দেশেই দ্রুত বেড়ে চলেছে।
কেয়ার গিভারের কাজ দুই ভাগে ভাগ করা যায় যেমন:-
ব্যক্তিগত: বিছানা প্রস্তুত করা, বিছানা থেকে তোলা বা উঠানো, দাঁত মাজানো, বাথরুমে নিয়ে যাওয়া, হাত ধোয়ানো, তেল-লোশন/ঔষধ মাখানো/মালিশ করা, শরীর ম্যাসাজ করা ও চুল আঁচড়ানো, হাত ও পায়ের নখ কাটা ইত্যাদি।
সাধারণ স্বাস্থ্য পরিচর্যা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, জ্বর পরিমাপ (সাধারণ থার্মোমিটার ও ডিজিটাল থার্মোমিটার), ডায়াবেটিস ও প্রেসার মাপা ইত্যাদি।
কেয়ার গিভিং যেমন একটি মানবিক কার্যক্রম, তা ঠিকঠাক মতো করতে লাগে সঠিক প্রশিক্ষণ। যথাযথ প্রশিক্ষণ একজন কর্মীকে দক্ষ কেয়ারগিভার হিসেবে প্রস্তুতি করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদী কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে।
ঢাকা মোহম্মদপুরের কেয়ার গিভার্স ইন্সটিটিউট অফ বাংলাদেশের হেড অব ট্রেইনিং আব্দুর রাজ্জাক জানান, দেশে ও বিদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে অনেকগুলো ইন্সটিটিউট। সাধারণত ছয় মাসের একেকটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রথম তিন মাসে লেভেল ১ ও ২ শেষ করা হয় এবং পরের তিনমাসে লেভেল ৩ এর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ছয়মাসের এই বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এরিমধ্যে হাজার হাজার কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন।
জনাব রাজ্জাক জানান, ছয় মাসের একেকটি কোর্সে শিক্ষার্থীদের কোর্স ফি দিতে হয় মাত্র ৪০,০০০ টাকা। এত অল্প. সময়ে ও অল্প টাকায় আর কোন কোর্সেই দেশ-বিদেশে চাকরীর নিশ্চয়তা দেয়না।
এই কোর্সগুলোতে সাধারণত বয়ষ্কদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, নবজাতকের যত্ন, অটিস্টিক শিশুর যত্ন, প্রাথমিক চিকিৎসা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত। অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা সপ্তাহের পাঁচদিন নিয়মিত ক্লাস নেন। এ প্রতিষ্ঠানে ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের হোস্টেলেরও ব্যবস্থা করছে তার প্রতিষ্ঠান জানান আব্দুর রাজ্জাক।
কেয়ার গিভার হিসেবে কাজ করতে চাইলে ন্যূনতম এসএসসি পাশ হতে হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নির্ধারিত কারিকুলামে পরিচালিত এই কোর্স অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন। বিদেশগমনেচ্ছু কর্মীদের প্রয়োজন হয় সে দেশের ভাষা শিক্ষা। উচ্চ বেতন, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যাপক চাহিদার কারণে বর্তমানে এই পেশা অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এই পৃথিবীতে কেউই চিরস্থায়ী সুস্থতা নিয়ে জন্মায় না। যেকোনো সময় যে কারও শারীরিক বা মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে ব্যস্ত সমাজে কেয়ার গিভাররা নিরবে পরিবার ও সমাজের সেবা করে যাচ্ছে। এই মানবিক কার্যক্রমে শিক্ষিত ও আন্তরিক কর্মীর চাহিদা তাই দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, এই কোর্সের সাথে সাথে করতে হবে ভাষার কোর্স। মানে কেয়ার গিভারের কোর্স করে যদি আপনি জাপান, জার্মানি বা কোরিয়ার যেতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই সেই ভাষা শেখার কোর্স করতে হবে।পরীক্ষায় পাসও করতে হবে। তাহলে পাবেন চাকরি আর ভিসা।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট।