ভিসা করিয়ে দেয়ার নামে নানান প্রতারনা

এ্যাডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৫, ১৭:১৩

ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা বা কানাডা সব খানে, দেশ থেকে ভিসা করিয়ে দেবার নাম করে চলছে, সাধারণ মানুষদের টাকা হাতিয়ে নেবার কাজ কারবার। দালাল বা এজেন্সির লোক ছড়িয়ে আছে সবখানে। তারা দাঁড়িয়ে আছে আপনাকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু কিছু কথা বা ঘটনা যখনই ঘটবে তখনই বুঝতে পারবেন আপনি ঠকতে চলেছেন।
জেনে নিন কী সেই সব কথা:
১। ‘১০০% ভিসা’, ‘আগে ভিসা, পরে টাকা’ এসব কথা বলা মানে ধাপ্পাবাজি। কারণ কোন দেশের ভিসার পাবার নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। ভিসা দেয়ার এখতিয়ার শুধু যে দেশে যাবেন, সেই দেশের ভিসা কর্মকর্তার। তাই ‘নিশ্চিত ভিসা’ মানেই নিশ্চিত ঘাপলা।
২। ‘ইনবক্সে আসেন’… ফেসবুকে বিজ্ঞাপনে এসব কথা বলা এজেন্সির সংখ্যা বেড়ে গেছে। ইনবক্স আলাপ মানেই প্রতারিত হবার সম্ভাবনা। অতএব সাবধান।
৩। ভিজিট ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য মূল পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। পাসপোর্টের স্ক্যান কপি হলেই চলে।পাসপোর্ট অন্যের কাছে না দেয়াই ভালো। স্ক্যান কপির বদলে মূল পাসপোর্ট চাইলেই বুঝতে হবে, ঘাপলা আছে।
৪। যেসব এজেন্সি বা দালালরা ইউরোপ আমেরিকার ভিসা করে দেবার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেয়, বুঝবেন তারা ঠকাতে চাইছে। কারণ ইউরোপ বা আমেরিকার ভিসা পাওয়ার বিষয়ে কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
৫। ইউরোপ, আমেরিকায় ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসা করে দেবার নাম করে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হচ্ছে এখন। কখনো কখনো ভুয়া ওয়েব সাইট দেখিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে।
৬। আমেরিকা বা অন্য দেশের এ্যাম্বেসির লোক ধরে ভিসা করিয়ে দেয়ার কথা বলা মানেই বড় ধাপ্পাবাজি। এটা কোনভাবেই সম্ভব না।
৭। ‘কম টাকা’ বা ‘কম সময়ে’ ভিসা করিয়ে দেয়ার কথা বলাও এক ধরনের ধাপ্পাবাজি। কারণ, সব দেশের ভিসার ফিস নির্দিষ্ট করা থাকে। তবে সময় কত লাগতে পারে তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
৯। ‘নো ভিসা, নো ফিস’… এসব কথা যারা বলেন, তারাও আপনাকে ফাঁদে ফেলে দিতে পারে। সতর্ক হোন।
১০। সাবমিট করা ভিসার কাগজপত্র চাইলে গেলে গড়িমসি, ‘কম্পিউটার ক্র্যাশ করেছে’, ‘যিনি কাজ করতেন তিনি নাই’…ইত্যাদি বলতে থাকলেই ধরে নিতে হতে পারে, যে প্রতারিত হতে চলেছেন।
১১। ভিসা করিয়ে দেয়ার নামে যারা অগ্রিম টাকা চাইবে, প্রথমেই মনে করতে হবে যে, ধাপ্পাবাজির ঘটনা ঘটতে পারে।
১২। আমেরিকান ভিসা প্রসেসিং করালে যারা DS 160 ফর্মের প্রিন্ট দেন না, শুধু কনফার্মেশন পেইজ দেন, তারা ধাপ্পাবাজি করছেন বলেই মনে করতে হবে।
১৩। কোন এজেন্সি ভিসা করানোর নামে আপনার অফিসের সাদা প্যাডের কয়টা পেজ চাইলেই বুঝবেন ঘাপলা হচ্ছে।
১৪। কানাডায় লটারি ভিসা বলে কিছু নেই। এসব প্রতারণা।
এই প্রতিবেদনের তথ্য ইমিগ্রেশন ল’ইয়ার এ্যাডভোকেট তানবীর সিদ্দিকীর ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। এ্যাডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টস্ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চীফ কনসালট্যান্ট ।