
দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের একটি বড় খাত হতে পারে কেয়ারগিভার।
একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভার মূলত শিশু অথবা বয়স্ক সুস্থ বা অসুস্থ ব্যক্তির শারীরিক যাবতীয় বিষয় দেখভাল করেন। সেবাগ্রহণকারীকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুসারে সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো, জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, পালস, জ্বর, ব্লাড প্রেসার, শ্বাস-প্রশ্বাস মনিটর করা, প্রয়োজন অনুসারে রেকর্ড রাখা এবং যাবতীয় বিষয়গুলোর রিপোর্ট সংরক্ষণ করে থাকেন কেয়ারগিভার।
একজন দক্ষ কেয়ারগিভারের বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের একটি বড় খাত হতে পারে কেয়ারগিভার। কোর্স শেষে দেশে কাজের সুযোগ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডে কেয়ার সেন্টার, নার্সিং হোম, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, আশ্রয়কেন্দ্র, পুনর্বাসনকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ এ দেশ থেকে প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কেয়ারগিভার নিচ্ছে। কেয়ারগিভার কাজে বিদেশে যাওয়ার সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলসহ বেসরকারি খাতের শ্রম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির মাধ্যমে এই পেশায় বিদেশে কাজে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ন্যূনতম এসএসসি বা সমমানের পাস হলেই কেয়ারগিভার হওয়া যাবে। বয়সের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে থাকতে হবে সেবা দেওয়ার মানসিকতা। সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া, আপন করে নেওয়ার গুণাবলী থাকতে হবে। হতে হবে সাবলীল। সরকারি টিচারস ট্রেনিং কলেজে (টিটিসি) নামমাত্র খরচে কেয়ারগিভার কোর্স করা যায়। বেসরকারিভাবে ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ পড়বে ১২ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) অনুমোদিত কেয়ারগিভিং চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড ট্রেডে কেয়ারগিভার পেশায় দক্ষতা বাড়াতে ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের সনদ ইস্যু করে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। প্রশিক্ষণ চলাকালে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগও পাওয়া যায়। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীন বিভাগ বা জেলাভিত্তিক বেশ কিছু সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) থেকে তিন মাস ও ছয় মাস মেয়াদি কেয়ারগিভার কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) থেকেও কোর্সটি করা যাবে।
এ ছাড়া ঢাকায় প্রফেশনাল কেয়ারগিভার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, খিলগাঁও; কেয়ারগিভার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, মোহাম্মদপুর; ব্রাইট কেয়ার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বাড্ডা; কেয়ার স্কিলস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, মোহাম্মদপুর; অ্যাক্রো কেয়ারগিভার ট্রেনিং সেন্টার, আফতাবনগর; কেয়ারগিভার্স ইনস্টিটিউট অব মুগদাপাড়া থেকে কোর্স করা যাবে। দেশে এমন আরো প্রতিষ্ঠান আছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ