যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত ১ লাখ অবৈধ অভিবাসী, আটক ১ লাখ ১৩ হাজার
নিউইয়র্ক থেকে কাবেরী মৈত্রেয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২৩:৩২

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ১ লাখেরও বেশি নথিপত্রবিহীন অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছেন- এমন তথ্য জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসী নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা ১ লাখ ১৩ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে এবং ২০ জানুয়ারির অভিষেকের পর থেকে ১ লাখেরও বেশি অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দিয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, ট্রাম্প যে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন, এটা তারই প্রমাণ। অবৈধ অভিবাসী, সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য এবং সন্ত্রাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করছেন। আইসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন, তিনি ঠিক সেটাই করছেন, যার জন্য তাকে ভোট দেওয়া হয়েছিল। একদম সোজা কথা।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন দোষী সাব্যস্ত, তাদের মামলার অবস্থা কী এবং তাদের জাতীয়তা কী। বেশির ভাগকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন দমনের ওপর জোর দিয়েছিলেন এবং প্রথম দিনই সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আশ্রয় ব্যবস্থা বন্ধ করেছেন এবং দেশজুড়ে ব্যাপক নির্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছেন।
আইস ইতোমধ্যে তার সব আটক রাখার স্থান পূর্ণ করেছে এবং কংগ্রেসকে অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুরোধ জানাচ্ছে, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাসন অভিযান চালিয়ে যেতে পারে। এই অভিযানে প্রথম ৫০ দিনে ৩২ হাজার জন গ্রেফতার হয়েছিল।
ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অপরাধী সংগঠনগুলো দমনেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি ১৮শ শতকের এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার গ্যাং সদস্যদের এল সালভাদরের কুখ্যাত নরকের কারাগারে পাঠিয়েছেন, যেখানে তাদের কোনো বিচার হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ এখন আর নাগরিকত্ব পাওয়ার সহজ উপায় নয়।
তথ্য বলছে, গত মার্চ মাসে মাত্র ৭ হাজার অভিবাসী অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যা গত বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে ১ লাখ ৩৭ হাজার প্রবেশের তুলনায় ৯৪ শতাংশ কম। ফেব্রুয়ারিতেও প্রায় ৮ হাজার ৩০০ জন অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ করেছিল, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ডিএইচএস কর্মকর্তারা জানান, অভিবাসীরা এখন ভয় পাচ্ছে, কারণ এখন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ অবৈধ অনুপ্রবেশ সান ডিয়েগো এবং এল পাসো সীমান্ত সেক্টরে ঘটেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। যদি এই নিম্নহার অব্যাহত থাকে, তাহলে ১৯৬৮ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা সর্বনিম্ন হতে পারে।