Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

পর্তুগালে মুসলিম সমাজকে একতাবদ্ধ করে রমজান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৫, ১১:২৮

পর্তুগালে মুসলিম সমাজকে একতাবদ্ধ করে রমজান

ইসলামি ক্যালেন্ডারের পবিত্রতম মাস রমজান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পর্তুগালের মুসলিম সম্প্রদায়ও নিষ্ঠার সঙ্গে রমজানের রোজা পালন করেন। এ দেশে ৫০ হাজারের বেশি মুসলমানের বসবাস। তাদের প্রাপ্তবয়স্করা রোজা রেখে আত্মশুদ্ধি অর্জনসহ সৎকর্মে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে রমজানের মাহাত্ম্য রক্ষা করেন। পর্তুগালে রমজান জুড়ে মুসলমানরা সাহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত সময়ে ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমাজের একতাবদ্ধ চেতনাকে একসঙ্গে বহন করেন, যা বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।

রমজান আসার আগে পর্তুগালের মুসলমানরা রোজা ও ইবাদতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে রাখে। মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারগুলো পবিত্র মাসের জন্য বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করে। লিসবনের কেন্দ্রীয় মসজিদ, যা পর্তুগালের বৃহত্তম ইসলামিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। মসজিদটি এই সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে একত্র করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন বিনামূল্যে ইফতার সরবরাহ করে, তারাবির নামাজের ব্যবস্থা করে এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করে। সেহরি রোজাদারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শেষ রাতে খাওয়া হয়। এটি দিনের দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। পর্তুগালের মুসলমানরা সাধারণত ফজরের আজানের একেবারে পূর্ব মুহূর্তে সাহরি গ্রহণ করেন। সাহরিতে তারা খেজুর, দই, ফল, ডিম এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করেন, যা দীর্ঘক্ষণ শক্তি ধরে রাখার উপযোগী। পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনেকে সাহরিতে প্রচুর পানি ও হারবাল চা পান করেন। রমজান মাসে পর্তুগালের মুসলমানরা তাদের দৈনন্দিন রুটিন রোজার সময় অনুযায়ী সামঞ্জস্য করে নেন। যারা চাকরি করেন বা পড়াশোনা করেন, তারা সাধারণত দিনটি দ্রুত শুরু করেন যাতে ব্যক্তিগত কাজ ও ধর্মীয় দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় রোজাদার কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য সময়সূচিতে নমনীয়তা প্রদান করে থাকে।

রমজান মাসে দিনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সময় হলো ইফতারের মুহূর্ত। পর্তুগালের মুসলমানরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এরপর মাগরিবের নামাজ আদায় করে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন।

পর্তুগালের মুসলিম পরিবারগুলো তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুযায়ী ইফতার আয়োজন করে। যেহেতু পর্তুগালে মরক্কো, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও গিনি-বিসাউয়ের মুসলমানদের বসবাস রয়েছে, তাই ইফতারের খাবারেও বৈচিত্র্য দেখা যায়। ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে মরক্কোর হরিরা স্যুপ, সামোসা, বিরিয়ানি, গ্রিলড মাংস ও তাজা সালাদ অন্যতম। লিসবনের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি ইফতার সরবরাহ করে, যাতে রোজাদাররা বিনামূল্যে ইফতার গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া অসহায় ও দুস্থদের জন্য খাবার ও পোশাক বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়, যা রমজান মাসে দান-সদকার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

পর্তুগালের মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজসহ অতিরিক্ত ইবাদতের আয়োজন করা হয়। এই সম্মিলিত ইবাদত মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে। লিসবনের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ পোর্তো ও ফারোর অন্য মসজিদগুলো কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ-নসিহত এবং প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করে, যা মুসলমানদের ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। সম্প্রতি লিসবন ইসলামি কমিউনিটির প্রতিনিধি সামির আবু বকর বার্তা সংস্থা লুসাকে এসব তথ্য জানান।

তথ্যসূত্র: দৈনিক দেশ রূপান্তর ০৩.০৩.২০২৫

Logo