Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

তুরস্কে উচ্চশিক্ষার মান বিশ্বসেরা, সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশিরাও

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৫, ১১:৪১

তুরস্কে উচ্চশিক্ষার মান বিশ্বসেরা, সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশিরাও

তুরস্ক দেশটি ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ, যেখানে উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হচ্ছে। আধুনিক শিক্ষানীতির কারণে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করতে যায়।

উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো 

তুরস্কের উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা উচ্চ শিক্ষা পরিষদ(YÖK)দ্বারা পরিচালিত হয়। দেশটিতে তিন ধরনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে:

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং তুলনামূলকভাবে টিউশন কম।

বেসরকারি (ফাউন্ডেশন) বিশ্ববিদ্যালয়: বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত এবং গবেষণার জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে।

বৃত্তিমূলক ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়: যেগুলো বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিগত ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক মান ও র‍্যাংকিং

তুরস্কের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করে এবং বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে স্থান করে নিয়েছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়:

কোচ বিশ্ববিদ্যালয় (Koç University): উচ্চমানের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরিবেশের জন্য পরিচিত।

সাবানচি বিশ্ববিদ্যালয় (Sabancı University): আধুনিক শিক্ষানীতির জন্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি (Middle East Technical University - METU): প্রকৌশল ও বিজ্ঞানের জন্য বিখ্যাত।

বোগাজিচি বিশ্ববিদ্যালয় (Boğaziçi University): ঐতিহ্য ও উচ্চমানের শিক্ষার জন্য জনপ্রিয়।

বিলকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় (Bilkent University): আন্তর্জাতিক গবেষণার জন্য স্বীকৃত।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ

তুরস্ক সরকার এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ দেয়, যার মধ্যে তুরস্ক বুরসারি স্কলারশিপ অন্যতম। শিক্ষার্থীরা এখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচে উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

গবেষণা ও উন্নয়ন

তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নত গবেষণা পরিচালিত হয়।

তুরস্কের উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ থাকায় দেশটি উচ্চশিক্ষার জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য হয়ে উঠছে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার নীতির কারণে তুরস্কের শিক্ষাব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরো উন্নত হবে।

তুরস্কে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন, প্রায় ২০০ জন অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নরত, এবং নিজ অর্থায়নে আরো অনেক শিক্ষার্থী তুরস্কে পড়াশোনা করছেন। ​

তুরস্ক সরকার প্রতি বছর 'তুর্কিয়ে বুরসলারি' নামে পূর্ণ বৃত্তি প্রদান করে, যার আওতায় প্রতি বছর প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। এই বৃত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হচ্ছেন, যা তুরস্কে তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করছে।

শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসেই বিপুল পরিমাণ পর্যটক তুরস্ক ঘুরতে যায়। পর্যটনের জন্য সারা পৃথিবীতে তুরস্কের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তার্কিশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে ইস্তানবুল রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করে। প্রতিটি ফ্লাইটে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের মতো উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়, যা সাধারণত ২৭০ থেকে ৩৫০ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম। সুতরাং, প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ৩৫০ জন যাত্রী পরিবহন করা হলে, মাসে (৩০ দিন ধরে) মোট যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৮,১০০ থেকে ১০,৫০০ হতে পারে।

তাই তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ অর্থনীতি, শিক্ষা, পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বাড়ছে দিন দিন।

Logo