অস্ট্রেলিয়ার চিঠি, পর্ব-২
সিডনিতে যেভাবে কাজ খোঁজা শুরু...
সাইফুদ্দিন অপু, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৫, ১৮:৪৬

দেশে থেকে মনে হয়েছিল, বিদেশে সবাই কর্পোরেট জব করে। কিন্তু বাস্তবতা আমার চিন্তার বাইরে। কাজ খুঁজতে গিয়ে রিজিউম তৈরি করলাম। কেউ একজন বলল, বিভিন্ন কোম্পানিতে রিজিউম দিয়ে আসতে। তারা ডাকবে। আমিও বোকার মতো, বিভিন্ন কোম্পানিতে হেঁটে হেঁটে নিজের আর নিজের বউর রিজিউম দিতে লাগলাম, অনেকটা বাংলা সিনেমার নায়ক জসিম-শাবানার মতো। অনেক কোম্পানির গেটে লেখা "No vacancy"। এই লেখাও যে বাস্তবে আমার জন্য প্রযোজ্য হবে তা চিন্তারও বাইরে ছিল। আসলে জীবনের প্রতিটি দিনই নতুন কিছু শেখায়।
চাকরি তো কেউ আমাকে দেয় না। এদিকে, টাকা-পয়সায়ও টান পড়তে শুরু করেছে।একদিন একজন বলল, নর্থ সিডনিতে এক বাঙালি রেস্টুরেন্টে লোক লাগবে কাস্টমার সার্ভিস। ১৭ ডলার খরচ করে গাড়ি ভাড়া দিয়ে গেলাম। সারাদিন কাজ করলাম, রাতে আসার সময় ২০ ডলার বেতন দিল। আসা-যাওয়াতে প্রায় ২৯ ডলার খরচ করে ২০ ডলার আয় বিষয়টা ভালো ঠেকলো না। তার উপরে প্রায় তিন ঘণ্টা বাসে, ট্রেনে। কাজটা ছেড়ে দিলাম।
তারপর একজনের সঙ্গে বাংলাদেশি মালিকানাধীন এক বুচার শপে বুচারের সহকারী হিসেবে গোস্ত কাটার চাকরি নিলাম।কদিন বাদেই আমি খুব ভালো "বুচার" হয়ে গেলাম। কাস্টমার এলে আমাকে খোঁজে, লোকজন চেনা শুরু করলাম। একদিন একজন বলল, "বন্ডাই" তে বিচের পাশে একটা নতুন রেস্টুরেন্ট হয়েছে, ওখানে লোক লাগবে। চাইলে কাজ করতে পারি। আমি রাজি হলাম। ডিস ক্লিনারের কাজ। আমার তখন টাকা দরকার। কি কাজ সেটা আমার দেখার বিষয় না। রেস্টুরেন্টে এটি আমার প্রথম কাজ করতে আসা।
কাস্টমার হিসেবে আমরা রেস্টুরেন্টের সামনের সাজানো জিনিসটাই দেখি। পেছনে যে বিশাল যজ্ঞ, তা সম্পর্কে আমাদের সাধারণের কোনো ধারণা নেই। সকাল ৭টায় কাজ শুরু করছি। ক্লিনারের কাপড় পরে সেই যে কাজ শুরু করলাম অনবরত সাড়ে সাত ঘণ্টা শুধু প্লেটই পরিষ্কার করেছি। শেফদের খারাপ আচরণের জন্য একবারও মন কিংবা মেজাজ খারাপ করিনি। সেদিন আমি স্পষ্টতই বুঝেছি "প্রয়োজন মানুষকে শেখায়"।
একপর্যায়ে মনে হলো কোমর আর সোজা থাকছে না। দুম করে বসে পড়লাম নিচে। কেউ একজন এসে টেনে পেছনে নিয়ে গিয়ে বলল, রেস্ট নে, ভালো লাগলে বাইরে থেকে হেঁটে আয়। এ দেশে চার ঘণ্টা পর কাজে বিরতির নিয়ম আছে। কিন্তু রেস্টুরেন্ট এত ব্যস্ত ছিল যে, বিরতির কথা কেউ আমাকে বলেনি। আর আমিও নতুন ছিলাম, তাই বিষয়টা জানতাম না।
বাইরের বিচে হাঁটতে গিয়ে মন ভীষণভাবে ভালো হয়ে গেল, অনেক বিকিনি পরা নারী দেখে। এত এত স্বল্প কাপড়ের ললনা একমাত্র হলিউডের ছবিতে দেখেছিলাম, তাও কদাচিৎ। আহা, এত সুন্দর দুনিয়াও হয়, আহা, আহা…
সেদিন ভেবেছিলাম কাজটা করে যাবো এ স্বল্প বসনের ললনা দেখার জন্য হলেও। কিন্তু এত থালা বাসন পরিষ্কার করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সপ্তাহখানেক বাদে ছেড়ে দিলাম। এরপর পরিচিত যাকেই পেয়েছি তাকেই বলেছি কাজ লাগবে।
চলবে...