Logo
×

Follow Us

প্রবাসীর ডায়রি

অস্ট্রেলিয়ার চিঠি, শেষ পর্ব

সিডনিতে ১১৭টি জব ইন্টারভিউ দিয়েছি

সাইফুদ্দিন অপু, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৫, ১৯:১৯

সিডনিতে ১১৭টি জব ইন্টারভিউ দিয়েছি

ঠিক দুই বছর পর একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে লজিস্টিকস ডিপার্টমেন্টে কাজ হয়েছিল। সে কাজটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। এরপর আমি সবচেয়ে বেশি এক্সপেরিমেন্ট শুরু করেছি জব নিয়ে।

আমি ওয়ারহাউজিং অ্যান্ড লজিস্টিসে কাজ শুরু করার পর মনে হয়েছিল এ জায়গাটা অনেক বড় এবং এখানে সম্ভাবনা বেশি। এরপর আমি কাজের ব্যাপ্তি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলাম। এতে আমার যে লাভ হয়েছে, আমি এ ইন্ডাস্ট্রির শাখা-প্রশাখা জেনেছি।

দু-তিন বছর আমি ওয়ারহাউজিং লজিস্টিকস নিয়ে কাজ করে মনে হলো এর চেয়ে বড় সম্ভাবনা পোর্ট লজিস্টিকস। তারপর আমি ধীরে ধীরে পোর্ট লজিস্টিকসে কাজ করা শুরু করেছি এবং আজ পর্যন্ত আমি পোর্ট লজিস্টিকস নিয়ে কাজ করছি।

মজার একটা তথ্য দিই আমাকে নিয়ে। এ পর্যন্ত ১১৭টি ইন্টারভিউ দিয়েছি। ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৩টি কোম্পানিতে জব হয়েছে এবং আমি ১৭টি কোম্পানিতে জব করেছি। কোথাও এক সপ্তাহ, কোথাও এক মাস, কোথাও তিন মাস আবার কোথাও তিন বছর। আমার পছন্দ হয়নি ছেড়ে চলে এসেছি।

আমি জানতাম আমার হারানোর কিছুই নেই। জব না থাকলে আমি যে কোনো কাজ করতে পারব। তাই এক্সপেরিমেন্ট করার সাহস পেয়েছি এবং আমি জেনেছি আর জেনেছি এ দেশের কর্পোরেট কালচার, মানুষ, ইন্ডাস্ট্রি।

আমি আমার নিজের এ গল্পটি লিখেছি অন্য একটা কারণে। এ দেশে আমাদের দেশের লোকজন এসে প্রথমেই ভাবতে শুরু করে টাকা উপার্জন করতে হবে আর তা করতে গিয়ে যা তা কাজ শুরু করে। অর্থ উপার্জনের বিষয়ে আমার কোনো দ্বিমত নেই। কারণ এ জীবন অর্থ ছাড়া অর্থহীন। তবে আমি বিশ্বাস করি, থ্রি ইডিয়টের সেই একটা লাইন, ‘কাবিল বানো, কামিয়াবি ঝাক মারকে পিছে ভাগেগি।’

নিজের উপর বিশ্বাস রেখে নিজেকে তৈরি করলে টাকা এমনিতেই আসবে। এ দেশ হচ্ছে ল্যান্ড অব অপরচুনিটির আর আমাদের দেশ থেকে আসা প্রত্যেক মানুষই এক একজন মেধাবী রত্ন। দুইটির রসায়নে চমৎকার কিছু হয় এ দেশে। শুধু প্রয়োজন নিজের উপর বিশ্বাস ও মানসিক শক্তি।

শেষ।

Logo