অস্ট্রেলিয়ার চিঠি পর্ব-৪
বিদেশে শিখেছি জীবন মানে লক্ষ্যে ফোকাস করা
সাইফুদ্দিন অপু, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ১৫:৫১

ফ্রেইটে কাজ শুরু করার পর বেশ কদিন খারাপ লেগেছিল, লেবারের কাজ করছি বলে। কদিন বাদে বিদেশ জীবনে এত বেশি টাকার প্রয়োজন হয়ে পড়ল যে, তখন আর পেছনের গল্প মাথা থেকে চলে গেল। তখন নিজেকে নিজে বলতে শুরু করলাম জীবনে অনেক পথ হাঁটতে হবে। এই কাজ সেই হাঁটারই অংশ।
এরপর আমি দিনে-রাতে পাগলের মতো কাজ করতে লাগলাম। সেই ফ্রেইট লজিস্টিকসে কাজ করছি ,ফ্রেইট ডেলিভারি করছি ক্লিনিংয়ের কাজ করছি, সুযোগ পেলে পিৎজা ডেলিভারি করছি; যা খুশি তা। মাথায় ছিল আমাকে অনেক অনেক দূর যেতে হবে।
সে সময় আমি বাঙালি এক ভাইয়ের সঙ্গে ক্লিনিংয়ের কাজ করতাম একটা ফিশ ফ্যাক্টরিতে। প্রতি শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যায় সারা ফ্যাক্টরির প্রায় তিনশ টাব পরিষ্কার করতে হতো হাই প্রেশার ওয়াটার মেশিনের ভেতরে। সময় ছিল দুই ঘণ্টা। এর ভেতরে সব টাব এক জায়গায় জড়ো করে খুব দ্রুত মেশিনে দেয়া। একজন দেবে একজন বের করে আনবে।
সে ভাই মালয়েশিয়া থেকে নৌকা করে এ দেশে এসেছেন। তিনি অনেক বেশি পরিশ্রম করতে পারেন। সে সুবাদে ভাই অনেক অর্থ আয় করেছেন। এ দেশে সে সময় তিনটি বাড়ির মালিক ছিলেন তিনি আর ঢাকায় ধানমন্ডি ও বসুন্ধরাতে দুটি ফ্ল্যাট ছিল তার। আমি তার সঙ্গে গল্প করতাম। পড়ালেখা খুব বেশি করতে পারেননি ভাই। অল্প বয়সে মালয়েশিয়া গিয়েছেন কয়েক বছর থেকে ইঞ্জিনের নৌকাতে এ দেশে আসেন। জীবন তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
তিনি বলতেন– ‘ভাই নৌকাতে যেদিন উঠেছি এ দেশে আসার জন্য, সেদিনই তো জানতাম হয়তো নদীতেই জীবন শেষ হবে। তার মানে এখন আমি যে জীবনে আছি, সেটি বাড়তি। আমার টার্গেট অর্থ উপার্জন করা আর আমি সেটাই করছি।’
ওই ভাইর কাছে আমি একটা জিনিস শিখেছি আর সেটি হলো জীবনের লক্ষ্যে ফোকাস করা।
আমি এ দেশে অর্থ উপার্জন করতে আসিনি বললে ভুল হবে। অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি আমারও কিছু স্বপ্ন ছিল। আমি আমার ফেলে আসা ক্যারিয়ার আবার বানাবো এ দেশে, আমার বউর খুব ইচ্ছা ছিল বাইরের দেশের একটা ডিগ্রি নেয়া আর বাচ্চাদের ভালো পড়ালেখা।
ওই ভাইর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি আমার লক্ষ্যগুলোর দিকে ফোকাস শুরু করলাম। শুরু করলাম ক্যারিয়ারের পেছনে দৌড়ানো। সারাদিন ডেলিভারির কাজ করতাম আর ফাঁকে ফাঁকে আমি চাকরির রিজিউম দেয়া শুরু করেছি।
যখন যেখানে মনে হয়েছে আমি আমার রিজিউম দিয়েছি। কত হাজার জবে যে আমি অ্যাপলাই করেছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই। খালি রিজেকশন আসে। তারপরও আমি হাল ছাড়ি না।
আমি সব সময়ই বিশ্বাস করেছি, নিজেকে আর বিশ্বাস করেছি এ দেশের কোথাও না কোথাও, কেউ না কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি শুধু সময়ের জন্য বসে আছি।
চলবে…