
বাংলাদেশি নারী কর্মীদের বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো:
নিরাপত্তা
ও সুরক্ষা: অনেক নারী কর্মী কর্মস্থলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। বিশেষ
করে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
আইনি
সহায়তার অভাব: বহু সময়ে নারী কর্মীরা আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন, ফলে তাদের অধিকার
রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভাষাগত
ও সাংস্কৃতিক বাধা: স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় যোগাযোগে সমস্যা
হয় এবং কর্মস্থলে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়।
প্রতারণা
ও মানব পাচার: কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালের মাধ্যমে নারী কর্মীরা প্রতারণা
ও মানব পাচারের শিকার হন।
বাংলাদেশ
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ
১,২১,৯২৫ জন নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী কর্মী গেছেন সৌদি
আরবে, সংখ্যা ৬২,৯১৬ জন। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে নারী কর্মী প্রেরণের সংখ্যা ২০২০ থেকে
২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বছরে পরিবর্তিত হয়েছে।
২০২০-২১
সালে করোনা মহামারির কারণে নারী কর্মী প্রেরণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
২০২২
সালে ১,০৫,৪৬৬ জন নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। এ সংখ্যাটি ২০২৩ সালে এসে দাঁড়ায় ৭৬,১০৮
জনে। ২০২৪ সালে আরো হ্রাস পেয়ে হয় ৬১,১৫৮ জন।
সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে নারী কর্মী প্রেরণের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,
প্রশিক্ষণ সময় বৃদ্ধি, গৃহকর্মী প্রেরণ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা এবং নিয়োগকর্তাদের
আগ্রহ হ্রাস পাওয়া এর প্রধান কারণ।
বিদেশে
নারী কর্মীদের সংখ্যা বাড়াতে হলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানে
জোর দিতে হবে সরকারকে। এর পাশাপাশি নারী কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং আইনি
সহায়তা প্রদান করা জরুরি।
সঠিক
পদক্ষেপ ও সচেতনতার মাধ্যমে বিদেশে নারী কর্মীদের কর্মসংস্থান আরও নিরাপদ ও সফল করা
সম্ভব।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট