
ষোলটি ক্যাটাগরিতে কর্মী খুঁজছে জাপান। কিছু কিছু কাজ সহজ এবং সেই চাকরি পেতে লম্বা সময়ের প্রশিক্ষণও লাগে না। সাধারণ প্রশিক্ষণ আর জাপানি ভাষা জানলে বাংলাদেশ থেকে কর্মীদের জাপান যেতে পারার বড় সুযোগ আছে। কিন্তু কোন কোন ক্যাটাগরিতে কর্মী চাইছে জাপান?
জাপানের মিনিস্ট্রি অব ফয়েন এ্যাফেয়ার্সের তথ্য জানাচ্ছে, যে সব ক্যাটাগরিতে তারা দক্ষকর্মী খুঁজছে সেগুলো হলো:
১। কেয়ার গিভার বা নার্সিং কেয়ার ২। ভবন পরিষ্কার বা ক্লিনার ৩। শিল্প পণ্য উৎপাদন যেমন ইলেকট্রনিক এসেম্বলিং, মেটাল প্রসেসিংসহ আরো অনেক কিছু ৪। বাড়ি-ঘর নির্মান কর্মী ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ৫। শিপবিল্ডিং ও মেরিন মেশিনারী ইন্ডাস্ট্রি ৬। এভিয়েশন বা এয়ারপোর্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং, এয়ারক্রাফট মেইনটেইনেন্স ৭।অটোমোবাইল রিপেয়ার ও মেইনটেনেন্স ৮।হোটেলে গ্রাহক সেবা বা বাসা বাড়িতে নানান পরিষেবা ৯। অটোমোবাইলের পরিবহন ব্যবসা যেমন ট্রাক, ট্যাক্সি বা বাস ড্রাইভার ১০। রেলওয়ে লাইন নির্মান মেরামত ও ট্রেন চালানো সম্পর্কিত কাজ ১১। কৃষি কাজ ১২। মাছ চাষ সম্পর্কিত নানান কাজ ১৩। খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করণের কাজ ১৪। খাদ্য বা পানীয় তৈরি ও স্টোর ম্যানেজমেন্ট ১৫। বনায়ন ১৬।কাঠ শিল্প
জাপানে যেতে স্প্যাসিফিক স্কিলড্ ওয়ার্কার এসএসডব্লিউ ক্যাটাগরিতে নার্সিং কেয়ার,অটোমোবাইল পরিবহন ব্যবসা, রেলওয়ে, বনায়ন এবং কাঠ শিল্পে সব শর্ত পূরণ করলে, কেবল পাঁচ বছরের ভিসা পাবার কথা বলা হয়েছে।
জাপানের এই সব কাজে কর্মী হয়ে যেতে যথেষ্ট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার দরকার পড়ে। সাথে লাগে জাপানের ভাষাগত দক্ষতা। কোন কোন কাজে চাকরি পেয়ে গেলে বারবার ভিসা নবায়ন করা যায়। বিদেশের কর্মসংস্থান বিষয়ে অভিজ্ঞজনরা বলছেন, জাপানে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা আছে। কেবল প্রয়োজন দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ নেয়া আর ভাষা শেখার কাজটি চালিয়ে যাওয়া।
জাপানে বিদেশী কর্মসংস্থানের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, দেশটিতে কাজ করেন প্রায় ২ লাখ নেপালী ও ৪ লাখ ভিয়েতনামি। বিপরীতে জাপানে মাত্র ৩৩ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৪ সালে জাপানে মাত্র ১০৭৯ জন কর্মী, ২০২৩ সালে মোট ৯৬৭ জন এবং ২০২২ সালে মোট ৫০৮ জন কর্মী পাঠাতে পেরেছে।বিএমইটি এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০-২০২৩ সময়কালে বাংলাদেশ জাপানে মোট ৩৭০৭ জন শ্রমিক পাঠিয়েছে। পরিসংখ্যানে বোঝা যায়, সুযোগ থাকার পরেও, কেবল জানা বোঝার অভাবে জাপানে কর্মী পাঠানো আশানুরূপ হচ্ছে না।
কোথায় নেবেন জাপানের কাজের প্রশিক্ষণ?
রাজধানী ঢাকায় আছে বেশ কয়েকটি জাপানীজ কাজের ট্রেনিং সেন্টার। জাপান দূতাবাস বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফোন করে আপনি জেনে নিতে পারবেন ট্রেনিং এর জন্য আপনাকে কোথায় যেতে হবে, কী কী যোগ্যতার প্রয়োজন পড়বে।
এবার আসি, কোথায় শিখবেন জাপানি ভাষা?
জাপানের মৌলিক ভাষা শেখার জন্য ট্রেনিং এ অংশ নিতে হবে। ফাউন্ডেশন পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে, জাপানি ভাষায় যোগযোগ করতে, আপনি যে দক্ষ তার প্রমাণও হয়ে যাবে। জনশক্তিখাত সংশ্লিষ্ঠরা মনে করেন, বাংলাদেশি শ্রমিকরা যদি জাপানি ভাষায় সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হয়, তাহলে তারা সহজেই জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
মনে রাখবেন, জাপান আপনাকে খুঁজছে। এখন কাজ আপনার। জাপানি ভাষায় দক্ষ হোন। প্রশিক্ষণ নিন পছন্দের কাজের।
বিস্তারিত আরো জানতে ক্লিক করতে পারেন নিচের লিংকে: