
সামনে ঈদ। শুরু হবে লম্বা ছুটি। এই ছুটিতে অনেকে যেতে চান দেশের বাইরে। সে ক্ষেত্রে বিমান ভাড়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, এ বছর আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের নানা গন্তব্যে বিমান ভাড়া অনেক বেশি বাড়তি থাকবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইউরোপ, যুক্তরাজ্য (UK) এবং ভারতের মতো জনপ্রিয় ছুটির গন্তব্যগুলোর বিমান ভাড়া ৩০-৫০% পর্যন্ত বেড়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভ্রমণের চাহিদা বাড়ায় এই ভাড়া বেড়েছে, যা আগস্ট পর্যন্ত বাড়তিই থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন এত বেশি বিমান ভাড়া?
অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি কারণ এই দাম বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে—
১। মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ ও স্কুল ছুটির সময় একসঙ্গে পড়েছে – সাধারণত ঈদ ও স্কুল ছুটির কারণে আলাদা আলাদাভাবে বিমান ভাড়া বাড়ে, কিন্তু এবার দুটো একসঙ্গে হওয়ায় চাহিদা আরো বেশি বেড়েছে।
২। এয়ারলাইন্সের সীমিত আসন সংখ্যা– চাহিদার তুলনায় বিমানের সংখ্যা কম থাকায় ভাড়া বাড়ছে।
৩। বিমান সরবরাহে বিলম্ব– বৈশ্বিক এয়ারক্রাফট ডেলিভারিতে দেরি হওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইট সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে পারছে না।
এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রমজানের কারণে ব্যবসায়িক ভ্রমণ সাময়িকভাবে ৩০% কমে গেলেও রোজার শেষের দিকে এটি আবার বাড়বে। অনেক ব্যবসায়ী কর্মসূত্রে ভ্রমণের সঙ্গে পারিবারিক ছুটির পরিকল্পনাও মিলিয়ে নিচ্ছেন, ফলে বিমান ভাড়া আরো বেড়েছে।
সাশ্রয়ী ভ্রমণের জন্য পরামর্শ
১। যত দ্রুত সম্ভব টিকিট বুক করুন– দেরি করলে আরো বেশি খরচ পড়বে।
২। বিকল্প গন্তব্য বিবেচনা করুন– জনপ্রিয় রুটগুলোর বদলে কম চাহিদাসম্পন্ন দেশ বেছে নিতে পারেন।
৩। সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে ফ্লাইট নিন– উইকেন্ড বাদ দিয়ে অন্যান্য দিনে ফ্লাইট নিলে তুলনামূলক কম খরচ হতে পারে।
বিমান ভাড়ার উচ্চমূল্যে কিছুটা স্বস্তি, সেপ্টেম্বর থেকে কমার সম্ভাবনা
বিমান ভাড়ার ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির কারণে কিছুটা স্বস্তি দিতে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ও রুট বৃদ্ধি করছে। নতুন রুট এবং অতিরিক্ত ফ্লাইট চালুর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাড়ার উপর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমান সরবরাহে বিলম্ব: বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইন্সের সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় প্রভাব
বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, বৈশ্বিক এয়ারক্রাফট সরবরাহে বিলম্ব তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA)-এর তথ্যানুসারে, বর্তমানে ১৭,০০০ নতুন বিমানের অর্ডার জমা রয়েছে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বর্তমানে বিদ্যমান সরবরাহ হার বজায় থাকলে এই ব্যাকলগ দূর করতে প্রায় ১৪ বছর লেগে যাবে।
২০২৫ সালে প্রাথমিকভাবে ২,২৯৩টি নতুন বিমান সরবরাহের পূর্বাভাস ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা কমে ১,৮০২-এ নেমে আসতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইন্সের সক্ষমতায় আরো সীমাবদ্ধতা তৈরি করবে।
২০২৫ এবং তার পরের এয়ারফেয়ার ট্রেন্ড
বিশ্বব্যাপী বিমান ভাড়ার প্রবণতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দাম আরো বাড়তে পারে। Musafir.com-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী বিমান ভাড়া ২-১৪% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সুতরাং, ২০২৫ সালেও বিমান ভাড়া উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, এবং ভ্রমণকারীদের এই প্রবণতার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য আগেভাগে পরিকল্পনা করা উচিত।
রিপোর্ট সূত্র: গালফ নিউজ