
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ পেতে ভাষা শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষার দক্ষতা শুধু কাজের পরিবেশে সুবিধা দেয় না, বরং নিরাপত্তা, যোগাযোগ, অধিকার রক্ষা এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভাষা
শেখার গুরুত্ব:
যোগাযোগ
সহজ হয় – কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে সঠিকভাবে
যোগাযোগ করা সহজ হয়।
নিরাপত্তা
বৃদ্ধি পায় – ভাষা না জানলে কর্মী প্রতারণা বা অন্য সমস্যার শিকার
হতে পারেন।
কাজ
শেখা ও দক্ষতা বৃদ্ধি – ভাষা জানলে নতুন কাজ দ্রুত শেখা যায় এবং দায়িত্ব
পালনে দক্ষতা বাড়ে।
অধিকার
সংরক্ষণ – বিদেশে কর্মীদের অধিকার রক্ষার জন্য স্থানীয় ভাষায়
কথা বলা প্রয়োজন হতে পারে।
ক্যারিয়ার উন্নতি – ভাষা জানা থাকলে ভালো বেতনের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
যে
দেশে কর্মসংস্থান বেশি, সে অনুযায়ী বিভিন্ন ভাষা জানা দরকার:
১.
আরবি (সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত)
মধ্যপ্রাচ্যের
দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান রয়েছে।
সাধারণ
কথোপকথন, নির্দেশাবলী বোঝা ও মৌলিক আরবি জানা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষত
নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী ও দোকান কর্মীদের জন্য আরবি জানা অনেক সুবিধাজনক।
২.
ইংরেজি (মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া)
আন্তর্জাতিকভাবে
বহুল ব্যবহৃত ভাষা হওয়ায় ইংরেজি জানা সব জায়গায় সুবিধা দেয়।
ইংরেজি
জানা থাকলে অফিস সহকারী, হোটেল কর্মচারী, সিকিউরিটি গার্ড, ড্রাইভার, স্বাস্থ্যকর্মী
ও টেকনিক্যাল পেশাজীবীদের জন্য কাজের সুযোগ বেশি।
৩.
মালয়/বাহাসা মালয়েশিয়া (মালয়েশিয়া)
বাংলাদেশি
শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য মালয়েশিয়া।
কারখানা
শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক ও কৃষিখাতে কাজ করা কর্মীদের মালয় জানা দরকার।
৪.
কোরিয়ান (দক্ষিণ কোরিয়া - EPS কর্মসূচির জন্য)
দক্ষ
শ্রমিকদের জন্য কোরিয়ার Employment Permit System (EPS) প্রোগ্রামে অংশ নিতে কোরিয়ান
ভাষা পরীক্ষা (TOPIK) পাস করতে হয়।
কারখানা
শ্রমিক, কৃষি ও মাছ ধরার কাজে কোরিয়ান ভাষার দক্ষতা প্রয়োজন।
৫.
জাপানিজ (Japanese) (জাপান - TITP ও SSW প্রোগ্রাম)
জাপানে
টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (TITP) ও Skilled Worker (SSW) প্রোগ্রামে যেতে
হলে জাপানিজ ভাষা জানা জরুরি।
নার্সিং,
নির্মাণ ও প্রযুক্তি খাতের জন্য JLPT (Japanese Language Proficiency Test) পাস করা
দরকার।
৬.
ইতালিয়ান (Italian), স্প্যানিশ (Spanish), জার্মান (German) (ইউরোপীয় দেশসমূহ)
যারা
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে চান, তাদের সে দেশের স্থানীয় ভাষা শিখলে আরও ভালো সুযোগ
পাওয়া যায়।
কৃষিকাজ,
রেস্টুরেন্ট, কেয়ারগিভার ও টেকনিক্যাল চাকরির জন্য স্থানীয় ভাষা শেখা সুবিধাজনক।
বিদেশে
কাজের জন্য ভাষা শেখা শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে উন্নতির জন্যও অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে দেশে কাজ করতে যেতে চান, সে দেশের স্থানীয় ভাষার মৌলিক জ্ঞান
অর্জন করা উচিৎ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার আগে আরবি, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে মালয়
ভাষা, দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার আগে কোরিয়ান ভাষা এবং ইউরোপে যেতে চাইলে ইংরেজি বা স্থানীয়
ভাষা শেখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট