
প্রবাদ আছে, বাঙালি দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝে না। কথাটার মর্মার্থ ভিন্ন হলেও আক্ষরিক অর্থে প্রবাদটি বাঙালির জন্য যুতসই। কারণ সময়মতো দাঁতের যত্ন বা চিকিৎসা নেয়ার বিষয়ে অনেকে থাকেন উদাসীন। অল্প খরচে যে চিকিৎসা করা সম্ভব ছিল, সেটা না করার কারণে পরে খরচ করতে হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
তবে বিদেশিরাও দাঁতের সমস্যায় ভোগেন। এই চিকিৎসায় তাদেরও বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। দেশ থেকে বিদেশে, ছাত্র কিংবা শ্রমিক; যারাই প্রবাসে যান তারা বিষয়টি মর্মে মর্মে অনুধাবন করতে পারেন। কারণ, দাঁতের চিকিৎসার খরচ অনেক। চিকিৎসাও দীর্ঘমেয়াদি ।
এমনকি যারা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, তারাও বিপদে না পড়লে সেখানে দাঁতের চিকিৎসা করান না। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে বেড়াতে এলে করিয়ে নেন দাঁতের চিকিৎসা।
এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় দাঁতের চিকিৎসার খরচের উদাহরণ টানা যেতে পারে। দেশটিতে দাঁতের স্বাভাবিক পরীক্ষার খরচ অন্তত ১০০ ডলার। দাঁতে গর্ত হলে তা পূরণ করা বা ফিলিং করতে তার খরচ ১৫০ থেকে ৩০০ ডলার। আর প্রতিটি দাঁতের রুট ক্যানেল করানোর খরচ ২০০০ থেকে ৩৫০০ ডলার।
দুবাইয়ে প্রতি দাঁতের রুট ক্যানেলের সাধারণ খরচ ১৫০০ থেকে ৩০০০ দিরহাম, কানাডায় ৫০০ থেকে ১৫০০ ডলার আর আমেরিকায় ১০০০ থেকে ১৬০০ ডলার।
দাঁতের চিকিৎসার ইন্স্যুরেন্স থাকলে হয়তো বেঁচে যাবেন। তবে অনেক সময় দাঁতের চিকিৎসার খরচ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি দেয় না। তখন খরচের ধাক্কা বহন করা শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে যারা প্রবাসে যাওয়ার চিন্তা করছেন, শ্রমিক বা ছাত্র তাদের দাঁতের সমস্যা থাকলে দেশ থেকেই তা সারিয়ে নেয়া ভালো। যাতে বিদেশে গিয়ে অন্তত দু-এক বছর দাঁতের চিকিৎসা করাতে না হয়।
দাঁতের সমস্যা নিয়ে বিদেশে গেলে আর সেখানে চিকিৎসা করাতে হলে ফতুর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।