
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিনই বিপুল পরিমান আবেদনকারী কানাডায় স্থায়ী বা অস্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করে থাকে। কিন্তু বেশীর ভাগ আবেদনই জাল বা মিথ্যা তথ্য দেবার অভিযোগে বাতিল হয়। সম্প্রতি কানাডা সরকার আবেদনকারীদের সচেতনতার জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় কত ধরণের জালিয়াতি বা ভুল তথ্য প্রদান করা হয়ে থাকে, তার একটি তালিকা দিয়েছে। সরকার থেকে এও বলা হয়েছে, এ সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পরিবেশন করা হলে যোগ্য ব্যাক্তিকে ভিসা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়না সংশ্লিষ্ঠ সংস্থাকে।
সাথে এও সতর্ক করা হয়েছে, কানাডার ইমিগ্রেশন বা নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রদান বা নকল ও পরিবর্তিত নথিপত্র জমা দেওয়ার ফলে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।
জালিয়াতির ধরন ও পরিণতি
ভুয়া নথি বা ভুল তথ্য প্রদান
যেকোনো ধরণের মিথ্যা তথ্য বা জাল নথিপত্র জমা দেওয়া প্রতারণার শামিল। যেমন:
পাসপোর্ট ও ভ্রমণ নথি
ভিসা, প্রবেশ ও প্রস্থান সিল
ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার ফলাফল
চাকরির প্রমাণ বা নিয়োগপত্র
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি অনুমোদন, টিউশন ফি-এর রসিদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
ডিপ্লোমা, ডিগ্রি বা ট্রেড সার্টিফিকেট
সম্পর্কের প্রমাণ (জন্ম, দত্তক, বিয়ে, তালাক, মৃত্যু বা অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত নথি)
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা আদালতের কাগজপত্র
ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল
মিথ্যা চিকিৎসা তথ্য প্রদান
চিকিৎসা পরীক্ষার সময় বিদ্যমান বা পূর্বের কোনো রোগ সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রদান বা জালিয়াতি করা হলে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।
শারীরিক উপস্থিতি নিয়ে মিথ্যাচার
কানাডায় স্থায়ী বাসিন্দা (PR) নবায়ন বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় কানাডায় অবস্থানের সময়কাল সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া জালিয়াতির অন্তর্ভুক্ত।
যেসব শাস্তি হতে পারে
যদি আপনি, আপনার প্রতিনিধি বা দোভাষী মিথ্যা তথ্য বা নথি প্রদান করেন, তাহলে:
আপনার আবেদন বাতিল করা হবে
কমপক্ষে ৫ বছর কানাডায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারেন
আপনার নাম স্থায়ীভাবে IRCC-তে প্রতারণার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে
আপনার অস্থায়ী বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি কিংবা নাগরিকত্ব বাতিল করা হতে পারে
৫ বছর পর্যন্ত নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন না
আপনাকে কানাডা থেকে নির্বাসন করা হতে পারে
সম্পর্কের নামে প্রতারণা (ম্যারেজ ফ্রড)
অনেক সময় অভিবাসনের সুবিধা নেওয়ার জন্য মিথ্যা বিবাহ বা সম্পর্ক দেখানো হয়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা এই ধরনের প্রতারণা চিহ্নিত করতে সক্ষম এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দারা যদি এমন জাল সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক মামলা হতে পারে।
চার্জব্যাক জালিয়াতি
ভিসার আবেদন ফি পরিশোধের পর যদি কোনো আবেদনকারী বা অন্য কেউ তা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যাহার (চার্জব্যাক) করে নেয়, তবে এটি জালিয়াতির অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে:
আবেদন বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে
ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে
১০ বছর পর্যন্ত কানাডায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে ও ভবিষ্যতে আবেদন করলে তা প্রভাবিত হতে পারে
কানাডা কীভাবে ইমিগ্রেশন জালিয়াতি প্রতিরোধ করছে
IRCC (ইমিগ্রেশন, রিফিউজি এবং সিটিজেনশিপ কানাডা) বিভিন্ন উপায়ে প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করছে:
নথিপত্র যাচাই: নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
বিশেষ প্রোগ্রাম চালু: প্রতারণা প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করা হয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা: কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (CBSA), রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রতারণাকারীদের চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনা হয়।
বায়োমেট্রিকস (Biometrics) ব্যবহার: আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি কমানো হয়।
যে কেউ কানাডার ইমিগ্রেশন বা নাগরিকত্বের আবেদন করলে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রদান করা জরুরি। ভুল বা জাল নথি জমা দিলে শুধু আবেদনই বাতিল হবে না, বরং ভবিষ্যতে কানাডায় প্রবেশের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই, বিশ্বস্ত প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন এবং সব নথি যথাযথভাবে প্রস্তুত করুন।
তথ্যসূত্র: কানাডিয়ান এ্যাম্বেসি, বাংলাদেশ